জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পৌর এলাকায় মাছ চুরির সন্দেহে মহন নামে এক ব্যক্তিকে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) গভীর রাতে পৌর এলাকার রসলাপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে জানা যায়, রসলাপাড়ার মৃত সামছুলের ছেলে মহন দীর্ঘদিন ধরে তার চাচা আঃ রউফের পুকুরে পাহারাদারের কাজ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই স্থানীয় প্রভাবশালী শওকত চৌধুরীর পুকুর থেকে মাছ চুরির সন্দেহে মহনকে ডেকে নিয়ে আসা হয়। পরে শওকতের বাড়ির সামনে সাবেক কাউন্সিলর ছাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন সহযোগী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। মহন মাছ চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। নির্যাতিত মহন সাংবাদিকদের বলেন, আমি আমার চাচার পুকুরে পাহারাদার হিসেবে কাজ করি। ওই পুকুর থেকে মাত্র একটি তেলাপিয়া মাছ ধরেছিলাম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শওকত চৌধুরীর লোকজন সাবেক কাউন্সিলর ছাইদুলের নেতৃত্বে আমাকে তুলে নিয়ে মুখে গামছা বেঁধে অমানবিকভাবে পেটায়। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর মহনের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন অমানবিক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অভিযোগ স্বীকার করে সাবেক কাউন্সিলর ছাইদুল ইসলাম বলেন, মাছ চুরির অপরাধে তাকে মারধর করা হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

