জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে হোপপিরহাট দাখিল মাদ্রাসায় অর্থের বিনিময়ে ভুয়া নিয়োগের অভিযোগে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখের একটি নিয়োগ বোর্ড দেখানো হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ভুয়া প্রমাণিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সুপার জহুরুল ইসলাম ও সভাপতি বড়তারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে নিয়োগ কমিটি অবৈধভাবে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে নিয়োগবোর্ড দেখানো হয়৷ পরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ল্যাব গবেষণাগার ও এক শিক্ষকের নামে এমপিও ইনডেক্সে অন্তর্ভুক্ত করে। পরে স্থানীয় জনরোষ ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বেতন–ভাতা বন্ধ হওয়ায় নিয়োগপ্রাপ্তরা মরিয়া হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও বেতন উত্তোলন সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ ঘটনায় এবতেদায়ী প্রধান পদে নিয়োগপ্রাপ্ত আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি এবতেদায়ী প্রধান হওয়ার জন্য ভুয়া নিয়োগ বোর্ডের সমন্বয়ক ফিরোজ হোসেন সহ কয়েকজন শিক্ষক (আমিনুল ইসলাম, রুহুল আমিন) সামনে ৫ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করেন। এ সংক্রান্ত একটি অডিও কল ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। এমনকি তিনি ভুয়া নিয়োগের চাকুরী বাঁচানোর জন্য স্ট্যাম্প ও চেকও সরবরাহ করেছেন। অন্যদিকে ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত রুবিনা আক্তার গত ৫ আগস্ট যোগদান করেন। তবে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন জমাদান ও বোর্ড গঠনের তারিখ সংক্রান্ত কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। গত ২৪/০৮/২৫ ৩৭.১০.৩৮৬১.০০১.০১১৪.১৮.২৫ সূত্র: দপ্তরীয় স্মারক নং-০৫.৪৩.৩৮,৬১.০০০,৯৯,০০১.২৫-৪৬৫, তারিখ: ১৪.০৮.২০২৫ খ্রিঃ হোপপিরহাট দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের এবং গবেষণাগার সহকারী রুবিনা আক্তারকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর তদন্তের নির্দেশ দেয়। এর প্রেক্ষিতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বয়ে সভা হলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার সভাপতি স্বাক্ষর না করায় বেতন-ভাতা প্রদানের প্রস্তাব বাতিল হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হলেও এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্প্রতি বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ড মাদ্রাসার এডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। তবে অভিযোগ হতে দায়মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল হোসেন বলেন, এমন অবৈধ নিয়োগের পরও তারা মরিয়া হয়ে বেতন উত্তোলনের চেষ্টা করছেন। কিছু গণমাধ্যম কর্মী অর্থের বিনিময়ে সত্যকে আড়াল করে ভুয়া তথ্য প্রচার করছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু সাইদ ও মোতালেবসহ আরও অনেকেই বলেন, গত ১৭ আগস্ট ২০২৪ সারাদেশ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও যোগাযোগ বন্ধ ছিল। সেই সময়ে মাদ্রাসার কেরানি প্রতারক ফিরোজের চক্রান্তে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। ওই তারিখে এই মাদ্রাসায় কোনো নিয়োগ বোর্ড বসেনি, ডিজি’র কোনো প্রতিনিধি দল আসেনি, এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীরাও এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। আমি মাদ্রাসা বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ল্যাব সহকারী ও কারী আব্দুল খায়ের এর ঘুষ লেনদেনের অডিও ইতোমধ্যে ফাঁস হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে এই দুইজন, ল্যাব গবেষণাগার সহকারী ও কারী শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। তারা অবৈধ নিয়োগের বেতন ভাতা তুলতে নয়া কৌশলে তৎপর চালাচ্ছে৷ ক্ষেতলাল উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার বাবুল কুমার সাহা বলেন, ওই মাদ্রাসায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়োগ ও বেতন-ভাতার জটিলতা চলছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও সমাধান হয়নি। এখন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী কমিটির সভাপতির তত্ত্বাবধানে এ জটিলতা সমাধান করতে হবে। এখানে শিক্ষা অফিস বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্য কোনো দপ্তরের হস্তক্ষেপ নেই।

