আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাগেরহাটের ৪টি সংসদীয় আসন থেকে একটি আসন কর্তনের প্রতিবাদ এবং আসনটি পুনঃবহালের দাবিতে ৪৮ ঘন্টার হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি জামায়াত এনসিপি ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। বুধ ও বৃহস্পতিবার (১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধ চলবে বৃহস্পতিবার রাত বারোটা পর্যন্ত। আসনটি পুনঃবহাল না করা হলে আরো কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কারিগরি কমিটি খসড়া প্রস্তাবে বাগেরহাটের ৪টি আসনের মধ্যে একটি আসন কমিয়ে ৩টি রাখার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব অনুযায়ী বাগেরহাট ৩ (রামপাল মংলা) সংসদীয় আসন থেকে রামপাল উপজেলাকে বাগেরহাট ২ সংসদীয় আসনের সাথে যুক্ত করা হয় এবং মংলা উপজেলাকে বাগেরহাট ৪ (মোড়লগঞ্জ শরণখোলা) সংসদীয় আসনের সাথে যুক্ত করে বাগেরহাট ৩ সংসদীয় আসন বিলুপ্ত করে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাগেরহাট সদর চিতলমারী ও মোল্লাহাট উপজেলাকে বাগেরহাট -১, ফকিরহাট রামপাল ও মংলা উপজেলাকে বাগেরহাট -২ এবং মোড়লগঞ্জ শরণখোলা ও কচুয়া উপজেলাকে বাগেরহাট -৩ সংসদীয় আসন হিসাবে ঘোষণা করে। এ বিজ্ঞপ্তির বিরোধিতা করে জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আন্দোলন শুরু করে। হরতালের প্রথম দিনেই আদালত ও জেলা নির্বাচন অফিসের প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে দেয় হরতাল সমর্থনকারীরা। সরকারি প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। জেলার কোথাও কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। তবে রোগী বহনকারী যান ও অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদ পত্র ও কর্মীদের বহনকারী গাড়ি এবং জরুরি ঔষধ সরবরাহকারী যান এই হরতালের আওতা মুক্ত ছিল। সড়কের প্রত্যেকটি মোড়ে ছিল ব্যারিকেড। জেলা শহরের বাস স্ট্যান্ড ও ভিআইপি মোড় ও আদালতের সামনের সড়কে শ্রমিক দল ও যুবদলের সদস্যদের ক্রিকেট খেলতে দেখা গিয়েছে। মহিলা দলের কর্মীরা গোল্লা ছুটে অংশ নিয়েছেন। বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে কাটাখালী মোড়ে হরতালে অংশগ্রহণ করেছে। রাস্তায় বসে খাবার খেয়েছে। হরতালে ভোগান্তির শিকার কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, আজকের হরতাল সম্বন্ধে তারা জানেন না, বরিশাল ও পিরোজপুর থেকে অনেকে খুলনা যাওয়ার পথে যানবাহন না পেয়ে বারাকপুর মোড়ে যাত্রা বিরতি করেছে। প্রচন্ড গরমে হাঁটতে পারছে না আর। অনেক মহিলা ও শিশু রয়েছে এদের মধ্যে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক ও ছোট ছোট যান থামিয়ে রাখতে দেখা গেছে। হরতালের সমর্থনে জেলার প্রত্যেকটি মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা গেছে নেতাকর্মীদের। তাদের দাবি একটাই বাগেরহাটে চারটি আসন ফেরত চাই। হরতাল সমর্থনকারীদের মধ্যে বাগেরহাট জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাগেরহাটের ৪টি আসন থেকে একটি আসন কর্তন আমরা মেনে নিতে পারছি না। সিইসির এমন কি হলো যে বাগেরহাট থেকে একটি আসন কর্তন করতে হবে? আমরা বাগেরহাটবাসী বাঘ কুমিরসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছি। একটি আসন কর্তন হলে পুরো বাগেরহাটের উন্নয়নে প্রভাব পড়বে। আমরা উন্নয়ন বঞ্চিত হব। তিনি অনতিবিলম্বে সি ই সির প্রতি চারটি আসন বহাল রাখার ঘোষণার দাবি জানান। জেলা শ্রমিক নেতা সর্দার লিয়াকত আলী বলেন, বাগেরহাটে হরতাল অবরোধ বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছে। আজ বাগেরহাট অশান্ত। সিইসি বাগেরহাটকে অশান্ত করেছে। এর সম্পূর্ণ দায় সিইসিকে নিতে হবে। বাগেরহাট থেকে একটি আসন কর্তনের কোন প্রয়োজনীয়তা আমরা দেখছি না। দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার বিপরীতে সিইসি দেশের বিভিন্ন জায়গায় অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। জন ভোগান্তি বাড়িয়েছে। আমরা এগুলো থেকে পরিত্রাণ চাই। আমরা বাগেরহাটবাসী অনতিবিলম্বে বাগেরহাটের ৪টি আসন আগে যেমন ছিল তেমন দেখতে চাই। অন্যথায় বাগেরহাট জেলা থেকে সিইসির বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে। বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন বলেন, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন এর বিপরীতে সি ই সি সারাদেশে আসন বিন্যাসের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। দেশের জনগণ সুন্দর পরিবেশে একটি ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছে। সেখানে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। বাগেরহাটের ৪টি আসন যেমন ছিল ভালই ছিল কারো কোন অভিযোগ ছিল না। হঠাৎ সি ই সির কি প্রয়োজন ছিল একটি আসন কর্তন করার। তারপরেও সে আসনগুলো বিন্যাস করেছে তার ইচ্ছামত। আমরা ইসির এসব তালবাহানা মানি না। আমাদের আসন ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় সিইসির বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

