যশোর জেলার অভয়নগর থানা এলাকার শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধি লিমন শেখ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে অভয়নগর থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের ন্যায় গত ১১ আগস্ট রাত অনুমান ৯ ঘটিকায় নয়াপাড়া শহরে ব্যাটারি চালিত ভ্যান চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়ে রাতে বাড়ীতে আর ফিরে আসেনি।পরের দিন ১২ আগস্ট সকাল অনুমান ৬ ঘটিকায় অভয়নগর থানাধীন ৫নং শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামস্থ ফরাজীপাড়া বিলপাড়াগামী কাঁচা রাস্তার পাশে জনৈক নাসির ফরাজীর পতিত জমিতে জিকে গাছের সাথে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃতদেহ গলায় কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা অবস্থায় পড়ে থাকার সংবাদ পায় অভয়নগর থানা পুলিশ। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই নিকটস্থ পাথালিয়া পুলিশ ক্যাম্প থেকে অফিসার ও ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সকাল অনুমান ৯ ঘটিকায় হত্যাকান্ডের শিকার লিমনের বাবা আবুল কাশেম শেখ ও তার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তার বড় ছেলে লিমন শেখের মৃতদেহ সনাক্ত করেন।পুলিশ ভিকটিম লিমনের মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য যশোরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনার লিমনের বাবা আবুল কাশেম শেখ অভয়নগর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৩, তারিখঃ ১৩ আগস্ট। ধারা- ৩৭৯/৩০২/৩৪ পেনাল কোড এবং এসআই (নিঃ) মোঃ বায়েজীদ মোল্লা’কে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
পুলিশের নেতৃত্বে উক্ত চাঞ্চল্যকর লিমন হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে প্রকৃত আসামী গ্রেফতার এবং ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধারে একটি বিশেষ টিম নিরবচ্ছিন্ন তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ পূর্বক পর্যালোচনা ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তায় ২০ আগস্ট সন্ধিগ্ন আসামী হিসেবে বিল্লাল হোসেনকে নওয়াপাড়া শিল্প শহরের নুরবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত বিল্লাল এ হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। আসামী বিল্লালের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তার নিজ বাড়ির ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা ভ্যানের বডি, চাকা ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ খোলা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি বৃহস্পতিবার দৈনিক পাঞ্জেরীকে নিশ্চিত করেন যশোর জেলা পুলিশের এসপি রওনক জাহান।

