জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জাল একাডেমিক সনদ ব্যবহার করে দলিল লেখক লাইসেন্স নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রামপুরা চৌধুরীপাড়া গ্রামের প্রয়াত মতিয়ার রহমান চৌধুরীর ছেলে সৈয়দ আলী মর্তুজা চৌধুরী রবিন ( ৪৮) এর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রবিন ১৯৯১ সালের এসএসসি পাসের ভুয়া সনদ প্রদর্শন করে ক্ষেতলাল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ৯২ নম্বর লাইসেন্স গ্রহণ করেন।
অনুসন্ধান জানা যায় ২০০২ সালে জেলা সাব রেজিস্টার ৬ ৩০ নম্বর স্মারকে জাল এসএসসি সার্টিফিকেট দিয়ে দলিল লেখক হিসাবে কর্মরত ছিলেন রবিন চৌধুরীর। এবিষয়ে তৎকালীনী জেলা সাব রেজিস্টার মোজাম্মেল হক অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিলেও অদ্যবধি পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি৷ গত ১৮ আগস্ট স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজানুর চৌধুরী আবার জেলা সাবরেজিস্টার বরাবর ভুয়া সনদের দলিল লেখক সৈয়দ আলীর মর্তুজার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রবিন চৌধুরী ব্যক্তিগত সুবিধা দিয়ে সকল সাব-রেজিস্টারকে ম্যানেজ করে অনৈতিক লেনদেন করেন। তার যোগসাজশে অফিসের ডুপ্লিকেট চাবি নিজের দখলে রাখেন। এমনকি রাতের অন্ধকারে ওই ভবনে নারীসহ অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে রবিনের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে গত ৮ আগস্ট ২০২৫ সালে ক্ষেতলাল বাজারে রবিনসহ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে মিজান চৌধুরী কে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এ ঘটনায় ১১ আগস্ট ক্ষেতলাল থানায় মামলা দায়ের হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রবিন সাবরেজিস্টারের যোগসাজশে বিভিন্ন অনিয়মের স্বর্গ রাজ্য গড়ে তুলেছেন এখানে। প্রতিবাদ করলে স্যারের ভয় দেখাত। আমরা তার অধীনস্থ বিধায় কিছু করতে পারিনা। রবিন স্যারের লোকবলে দাপটের সঙ্গে সরকারি অফিসকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে ব্যবহার করেন।
ক্ষেতলাল সাব রেজিস্টার দলিল লেখক সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, আমি রবিনের পর লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়েছি৷ তার জাল সনদ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা একমাত্র সাব রেজিস্টার সামিউলের যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে চলাফেরা করে৷ আপনারা জেলা রেজিস্টারের সাথে কথা বলেন৷
অভিযুক্ত সৈয়দ আলী মর্তুজা চৌধুরী রবিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়াই বক্তব্য পাওয়া অসম্ভব হয়নি৷
ক্ষেতলাল সাব রেজিস্টার সানাউল ইসলাম বলেন তাদের শেরেশতা আলাদা আমাদের কোন চাবিতালা তিনি ব্যবহার করেন না। আগামী বুধবারে আমি অফিসে আসবো সেদিন বিস্তারিত জানাবো।
এ বিষয়ে জানতে জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল বারী বলেন এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

