ঢাকাTuesday , 12 August 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মণিরামপুরে কোচবিলে পানি নিষ্কাশন বাঁধায় অবৈধ ঘের উচ্ছেদ

Link Copied!

পানি নিষ্কাশনে অবৈধ ঘের উচ্ছেদে প্রশাসনের বাঁধার মুখে পড়েছে এলাকার শত শত কৃষক। মঙ্গলবার (১২ আগষ্ট) দুপুরে মণিরামপুর উপজেলার জয়পুর কোচবিল নামক বিলে অবৈধ ঘেরের ভেড়ি বাঁধ কাটতে গিয়ে প্রশাসনের বাঁধার মুখে পড়ে এলাকার শত শত কৃষক।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে জানাযায়, দীর্ঘদিন যাবৎ কোচবিলের পানি নিষ্কাশনে বাঁধাগ্রস্থ করে কিছু অসাধু ঘের মালিক সফলি জমি দখল করে ঘের স্থাপন করে। বর্ষা মৌসুমে বিলসহ আশ পাশে পানি নিষ্কাশনে বাঁধাগ্রস্থ হয়ে জলবন্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে ৩ গ্রামের শত শত কৃষক প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না আমলে নিয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে ইস্কোমিটার জব্দ করেন। এরপর কৃষকরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ঘের উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশসহ নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস ঘেরেয়াসহ সংগ্রাম করে আসছে। নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষকদের দাবী মেনে নিয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন। যেখানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম কে প্রধান করে কৃষি কর্মকর্তা ও মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। গঠিত কর্মকর্তাগণ ৪ জুন ঘটনা স্থান পরির্দশ করে কোচবিলে ১৫টি অবৈধ ঘেরের কারনে ১ হাজার হেক্টর জমিতে পানি জমে ফসল নষ্ট ও ৩০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থত হচ্ছে মর্মে রিপোর্ট দাখিল করেন। উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আইযুব আলী গাজী ২০১৯ ভবদহ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ ঘের তৈরিতে একটি প্রত্যয়ন প্রদানসহ জনগনের কল্যাণ কামনা করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপরও কৃষকরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খা মিটিংয়ে উল্লেখ করলে উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ¦ শহীদ মোহাম্মাদ ইকবাল হোসেন, উপজেলা জামায়াতের সভাপতি প্রভাষক ফজলুল হক, মণিরামপুর প্রেসক্লবের সভাপতি এস,এম মজনুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম, কৃষি কর্মকর্তা মাহামুদা আক্তার, থানা অফিসার ইনচার্জ বাবলুর রহমান খাঁন, ঘের মালিক পক্ষে এনামুল হক ও কৃষকের পক্ষে মনির পাটোয়ারীকে কমিটি করে দেন। আলোচনা সভায় সভার সম্মতিক্রমে সিন্ধান্ত হয় ১৬ জুলাই থেকে ১ আগষ্টের মধ্যে পুঁটিমারি ব্রিজ হতে মানুষ মারি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার বিলের মধ্যে দিয়ে আড় ১০ ফুট ও গভির ৫ ফুট খাল খনন করবে ঘের মালিক। ঘের মালিকরা খাল খনন করতে ব্যর্থ হলে অবৈধ কোন ঘের থাকবে না। কৃষক প্রতিনিধি মনির পাটোয়ারী জানান, প্রশাসনের সব প্রতিবেদন রিপোট কৃষকের পক্ষে আছে। প্রশাসন আমাদের একটি লিখিত দিয়েছে ঘের মালিকরা ১৫দিনে মধ্যে খাল খনন করে দিবে। না দিলে বিলে ঘের থাকবে না। কিন্তু ১৫দিন পার হওয়ার পরও প্রশাসন কোন হস্তক্ষেপ না করার কারণে কৃষকরা মাইকিং করে ১০দিনের মধ্যে ঘের থেকে মাছ তুলে নিতে এসময় আরো বলেন আমরা জনগণ সোমবার ও মঙ্গলবার ঘের উচ্ছেদ করতে নামবো। যে কারণে মঙ্গলবার শ’ শ কৃষক কুদাল হাতে নিয়ে ঘের উচ্ছেদের অভিযান চালায়। সে সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম, কৃষি কর্মকর্তা মাহামুদা আক্তার, থানা অফিসার ইনচার্জ বাবলুর রহমান খাঁনসহ দুই গাড়ি সেনাবাহিনী সদস্য ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়। ঘটনার পরিস্থিতে প্রশাসন কৃষকদের আবারো আশস্ত করে ১৯ আগষ্ট পর্যন্ত সময় নিয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসেছে এবং আগামী মঙ্গলবার উভয় পক্ষের সাথে বসে সমাধান করার চেষ্টা করবো।