জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের কাদোয়া বটতলী এলাকার একটি কলাবাগানে বস্তায় ভরে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম ছামছুল আলী খলিফা। তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছী উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত উম্মুর খলিফার ছেলে। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আক্কেলপুর তিলকপুর সড়কের পাশে নির্জন কলাবাগান থেকে অর্ধদগ্ধ মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পাশে শুকনো খরকুটো, পাতা ও ঘুঁটে আগুন জ্বলছিল। মরদেহের হাঁটুতে গলে যাওয়া প্লাস্টিক বস্তার অংশ লেগে ছিল বলে জানা গেছে। নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে থানা পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত করে। এরপর রাতেই নিহতের ছোট ভাই মুজাহিদ খলিফা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। স্থানীয় কলাচাষি বিকাশ দেবনাথ জানান, তিনি রাত পৌনে ৯টার দিকে পাশের পুকুরে মাছের খাবার দিতে এসে কলাবাগানে আগুন দেখতে পান। কাছে গিয়ে দেখেন, কয়েকটি বস্তা খরকুটো, শুকনো পাতা ও ঘুঁটের মধ্যে এক ব্যক্তির দগ্ধ দেহ পুড়ছে। দ্রুত গ্রামে গিয়ে লোকজন ডেকে এনে আগুন নিভিয়ে দেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছামছুল আলীর সঙ্গে তার স্ত্রী রশিদা বেগম এবং ছেলে রাসেল খলিফার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। ছামছুল তার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন। অভিযোগের কিছুদিন পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিহতের ছোট ভাই মুজাহিদ খলিফা অভিযোগ করে বলেন পারিবারিক কলহের জের ধরেই ছামছুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, ঘটনার পর থেকে আমার ভাতিজা (রাসেল) ও ভাবী (রশিদা) ফোন বন্ধ করে পালিয়েছে। আমি এই নির্মম হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

