মাদারীপুরে কুমার নদ থেকে রাতের আধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের ধাওয়া দেয় স্থানীয়রা। এতে মুহূর্তেই ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যায় অসাধুরা। পরে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে দেয় এলাকাবাসী। এঘটনায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালুর ব্যবসায়ী ওবায়েদুর ফরাজী হুমকি দেয় স্থানীয় কয়েকজনকে। ফলে ওই ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনার জন্য শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে মাদারীপুর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছে সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের রায়েরকান্দি গ্রামের সোহেল শিকদার নামে এক ব্যক্তি। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের শ্রীনদীর রায়েরকান্দি এলাকায় অবৈধ ড্রেজার পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কুমার নদে একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। এতে ভাঙ্গছে নদের পাড়। হুমকিতে ঘরবাড়িসহ বহু স্থাপনা। একইভাবে শুক্রবার রাতেও অবৈধ ড্রেজার মেশিন নিয়ে বালু উত্তোলনে আসে অসাধুরা। পরে স্থানীয়রা বালু উত্তোলনকারীদের ধাওয়া দিলে দ্রুত ট্রলার নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। পরে একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে এতে আগুন ধরিয়ে দেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় শনিবার ভোরে ড্রেজারের মালিক শিরখাড়া ইউনিয়নের রায়েরকান্দি গ্রামের মাইজ্জা ফরাজীর ছেলে ওবায়েদুর ফরাজী ফেসবুকে লাইভ করে একই এলাকার সোহেল শিকদারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় সোহেলের পরিচিত চাচা জিয়াউল হক বাবলু খালাসী ও ভাই পলাশ খালাসীকে উদ্দেশ্য করে হুমকি ও অশ্লীল গালিগালাজ করেন। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে ওবায়েদুর ফরাজীকে অভিযুক্ত করে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন ভুক্তভোগী সোহেল শিকদার। এ ব্যাপারে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ সাথে সাথে ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বালু উত্তোলনকারীরা। যারা এই বালু উত্তোলনের কাজে জড়িত তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া এমন কর্মকান্ডের খবর পেলে পুলিশও আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোন অপরাধী ছাড়া পাবে না।’

