নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা সদরের বাণিজ্যিক খ্যাত এলাকা টিএন্ডটি (টেলিফোন অফিস) রোডে মেসার্স বক্কর এন্ড সন্স নামের একটি মিনি পেট্রোল পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি রক্ষা পেলেও অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন এক যুবক। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাতে ডিমলা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার নুর মোহাম্মদ প্রাথমিক তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। এর আগে সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে সকাল ৯ টার সময় ডিমলা ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে হিমসিম খেয়ে ডোমার ও নীলফামারী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক শাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিমলা ফায়ার সার্ভিসসহ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এতে অল্পের জন্য আশপাশের অনেক মোটরসাইকেল শো রুম, অটো রিকশা শো রুম, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গুদাম, মার্কেট, ব্যাংক, এনজিও, বীমা অফিস, বসতবাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রক্ষা পায়। ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেন স্থানীয় জনতা ও ডিমলা থানা পুলিশ। এ সময় পার্শ্ববর্তি ডোমার উপজেলার পাঙ্গা ইউনিয়নের মৌজাপাঙ্গা গ্রামের সুধান্নর ছেলে শ্রাবন (১৮) নামের এক যুবকের দু’পা অগ্নিদগ্ধ হলে স্থানীয়রা তাকে ডিমলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠিয়ে দেন। আগুনে বক্কর এন্ড সন্সের কয়েকটি নতুন চার্জার অটো রিকশা, মোটরসাইকেল, ১২ ভোল্টের ব্যাটারী, সয়াবিন তৈল, আটা, সাবান, চিনি, ডিটারজেন্ট, ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, আসবাবপত্র পুড়ে যায়। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ মালিক পক্ষ থেকে বেশি দাবি করা হলেও ফায়ার সার্ভিস জানান ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ডিমলা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার নুর মোহাম্মদ বলেন, আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমসিম খেলে ডোমার ও নীলফামারী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। পরে ওই দুই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে দুটি করে চারটি গাড়ি আসলে আমরা ফোম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান, কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্নাসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

