ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ক্লাসে ছাত্রকে পিটিয়ে জখম ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক (ট্রেড ইন্সট্রাক্টর) মঞ্জুরুল হক উপজেলার সোহাগী ইউনিয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল (কারিগরি) শাখায় কর্মরত আছেন। সরেজমিনে তদন্ত করে জানা যায়, উল্লেখিত স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মনজুরুল হক ভূঁইয়ার সাথে কারিগরি শাখার ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মঞ্জুরুল হকের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব চলছিলো আগে থেকেই। রবিবার (২৭ জুলাই) সকালে ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মঞ্জুরুল হক নবম শ্রেণীর একটি প্রক্সি ক্লাস নিতে যান। ক্লাস চলাকালীন এক ছাত্রের তুচ্ছ অভিযোগকে পুঁজি করে তিনি পূর্ব আক্রোশ বশত সিনিয়র শিক্ষক মনজুরুল হক ভূঁইয়ার ছেলে তানজিমুল হক (মুহিন) কে নির্মমভাবে বেধড়ক বেত্রাঘাত শুরু করেন। একই সাথে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেন বলে জানা যায়। বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত জখম হওয়া সেই শিক্ষার্থী ক্লাস শেষে তাঁর পিতাকে ফোনে বিষয়টি অবগত করলে অভিযুক্ত ট্রেড ইন্সট্রাক্টর হুমকি দিয়ে বলেন যে তিনি কাওকে ভয় পান না। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে তিনি ভিকটিমকে ঈশ্বরগঞ্জে আটক করে আরো দশ গুণ পিটিয়ে প্রতিশোধ নিবেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত ইন্সট্রাক্টরের বিচারের দাবীতে সোমবার (২৮ জুলাই) শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেন। অতঃপর বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম অভিযুক্ত ইন্সট্রাক্টরের উপযুক্ত বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে ক্লাসে ফেরানোর চেষ্টা করেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার দিন ক্লাসে যাওয়ার আগেই অভিযুক্ত শিক্ষককে সতর্ক করেছিলাম যেন সতর্কতার সাথে ক্লাস নেন এবং ক্লাসে বেত ব্যবহার না করেন। তবু তিনি কেন এমন ঘটনা ঘটালেন সেটা বোধগম্য নয়। অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব দেওয়ার সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতার সাথে অভিযুক্ত শিক্ষকের পুরনো দ্বন্দ্ব সম্পর্কেও তিনি অবগত আছেন বলে জানান। অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ কুমার বণিক বলেন, এই শিক্ষকের কর্মকাণ্ডে আমরা অতিষ্ঠ। সভাপতি মহোদয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে তার (অভিযুক্তের) অতীতের কর্মকাণ্ড সহ সবকিছু বিস্তারিত আলোচনা করবো। তার বিষয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি মাত্রই জানতে পারলাম। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে কল কেটে দেন। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের শেষ দিকে এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে সোহাগী ইউনিয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখায় ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর (ইলেকট্রিক্যাল) পদে যোগদান করেন অভিযুক্ত শিক্ষক মঞ্জুরুল হক। এই ঘটনা ছাড়াও অতীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক বার অসদাচরণ ও নৈতিক স্থলনের অভিযোগ রয়েছে।

