পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার খারিজা ভাজনী গ্রামে জীবিত তিন ভাইকে মৃত দেখিয়ে কোটি টাকার পৈত্রিক জমি দখল ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, এটি শুধু প্রতারণা নয় বরং সমাজে অবদান রাখা একজন প্রবীণকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পিত চেষ্টা। ভুক্তভোগী ভবেন্দ্রনাথ রায় প্রধান জানান, আমার বাবা জলধর রায় প্রধান তিনবারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি নিজেও স্থানীয় সরকারে কাজ করেছি, স্কুল, মসজিদ ও মন্দিরের জন্য জমি দান করেছি। অথচ এখন আমাদের মৃত দেখিয়ে জমি দখল করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রও বাতিল করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভাগনে উত্তম কুমার রায় তনু ভুয়া কাগজপত্রে মামাদের মৃত দেখিয়ে নিজেকে একমাত্র উত্তরাধিকার দাবি করে জমি বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিরাও নিশ্চিত করেছেন, ভবেন্দ্রনাথসহ তিন ভাই জীবিত এবং এলাকায় সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। জমি ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, আমি তনুর কাছ থেকে জমি কিনেছি। তখন তিনি বলেছিলেন, তার মামারা মৃত। এখন বুঝতে পারছি আমরা প্রতারিত হয়েছি। আইনজীবী আসাদুর জামান জানান, জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করা দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় গুরুতর অপরাধ। এসব দলিল বাতিলযোগ্য এবং দোষীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও তাদের নাগরিক অধিকার ও জমি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

