সুন্দরবনে অবৈধ শুঁটকি জেলেদের হামলায় চার বনরক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন। জেলে দুর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বনরক্ষীদের টহল বোটটি (ট্রলার)। সোম বার (২১ জুলাই) পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের হরিণটানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ জানায়, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বনের হরিণটানা এলাকায় জেলে নামধারী একদল দুর্বৃত্ত গোপনে শুঁটকি তৈরী করে ট্রলারে পাচার করছিলো। গোপন সংবাদ পেয়ে হরিণটানা টহল ফাঁড়ির নিরস্ত্র বনরক্ষীরা অভিযান চালিয়ে শুঁটকি বোঝাই ট্রলারটি আটক করলে ১০-১২ জন জেলে তাদের ওপর হামলা চালায়। জেলেরা বনরক্ষীদের পিটিয়ে নদীতে ফেলে দেয় এবং বনরক্ষীদের ব্যবহৃত ট্রলারটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামী করে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। আহত বনরক্ষীরা হলেন হরিণটানা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল মন্ডল (৩১), বনরক্ষী আরমান দারিয়া (২৫), আবুল হাসান (২৭) ও আব্দুল গফুর (৪৭)। এদের মধ্যে ৩ জনকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল মন্ডলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বাগেরহাট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের এসিএফ দীপন চন্দ্র দাস বলেন, হরিণটানা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল মন্ডলের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা ধানসাগর স্টেশনের কলামুলা খালে টহলের সময় শুঁটকি বোঝাই ট্রলার আটক করেন। এ সময় ট্রলারে থাকা পাচারকারী দলের ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত জোটবদ্ধ হয়ে বনরক্ষীদের বেদম পিটিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। বনরক্ষীরা নদীতে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা বনরক্ষীদের ট্রলারটিও নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) হান্নান আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামী করে বন বিভাগের পক্ষ থেকে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শরণখোলা থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ বিকাল ৫ টার দিকে মোবাইল ফোনে বলেন, সুন্দরবনের বনরক্ষীদের উপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

