ঢাকাWednesday , 23 July 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈশ্বরগঞ্জে ৩ কিলোমিটার বেহাল সড়ক

Link Copied!

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ-আঠারবাড়ি সড়কের নির্মাণ কাজ ৩ কিলোমিটার ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় আটকে যাওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সড়কটি অতি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তায় বিপজ্জনক ভাবে যাতায়াতে দুর্ঘটনার পাশাপাশি নষ্ট ও বিকল হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশও। এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, রাস্তার একাধিক জায়গায় কার্যত মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে। রাস্তা এতই নাজেহাল যে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। আর তার জেরে হচ্ছে তীব্র যানজটও। সম্প্রতি সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, এর বেশির ভাগ অংশেই পানি জমে আছে। পুরো সড়কজুড়ে খানাখন্দে ভরা। যান চলাচল একেবারেই অনুপযোগী। সড়কটির কয়েক হাত পর পর বড় বড় গর্ত। তাতে জমে আছে বৃষ্টির পানি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ১৮ জুন ঈশ্বরগঞ্জ সোহাগী বাজার পিকআপ মোড় আঠারবাড়ী কলেজ মোড় পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার রাস্তার প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় ১১৫ কোটি টাকা এবং ৬৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০০ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ঠিকাদার তাহের ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেয়। তবে পুরো সড়কের অধিগ্রহণ না করে আঠারবাড়ি থেকে সৈয়দ ভাকুরী এলাকা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ করতে পারলেও ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকায় ৩ কিলোমিটার অংশ অধিগ্রহণ না করে কাজ করতে দিবেনা বলে কাজ আটকে দেয় জমির মালিকগণ। যে কারনে বাকি ৩ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। তবে সেই ৩ কিলোমিটারের মধ্যে থেকে দেড় কিলোমিটার সড়কে প্রস্থ কমিয়ে কাজ করা হয়েছে। এদিকে বাকী আরো দেড় কিলোমিটারের কাজ বন্ধ থাকায় সড়কের অবস্থা হয় বেহাল। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার চলাচলকারী ভোগান্তি পোহান। শুধু তাই নয় এই সড়ক দিয়ে যেতে হয় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে রোগী নিয়ে যাতায়াত করতে চরম ভোগান্তিতে পরতে হয়। তাই সড়কটি খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে ভোগান্তি দূর করার দাবি জানান তারা। সড়কটি কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, রাস্তার একাধিক জায়গায় কার্যত মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে। সড়কটি একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মোড় হতে হাসপাতাল রোড হয়ে সোহাগি পৌঁছতে নাভিশ্বাস হয়ে উঠছে। কিন্তু রাস্তা সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই বলে অভিযোগ। চলাচলকারী যাত্রী মোক্তাদিরুল ইসলাম হৃদয় বলেন, রাস্তার বহু জায়গায় বড় বড় গর্ত থাকার কারণে বৃষ্টি হলেই জলে-কাদায় ভরে যায় রাস্তা। রাস্তা দিয়ে বিপজ্জনক ভাবে চলাচলে দুর্ঘটনার পাশাপাশি রাস্তা ভাঙা হওয়ার কারণে মালামাল নিয়ে আসা যাওয়া করা যায়না এবং ভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে আর সময়মতো প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী পৌঁছানো যায়না। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মোড় থেকে হাসপাতালে যেতে যেখানে সময় লাগে ৫ মিনিট সেই রাস্তা পার হতে সময় লাগছে ১৫/২০ মিনিট। রিকশা চালক জুয়েল মিয়া বলেন, সাত আট বছর ধরে এই রোডে কষ্ট করে গাড়ি চালাচ্ছি। অনেক রিকশা চালক এ সড়কে রিকশা চালাতে চায় না। অটোরিকশা চালক আশরাফুল মিয়া বলেন, সড়কটি ভাঙাচোরা হওয়ায় অনেক কষ্টে এই রোডে গাড়ি চালাতে হয় এবং আমাদের গাড়িও বারবার নষ্ট হয়। তাছাড়া এই সড়কে চলতে গিয়ে প্রতিদিন রিকশা ভ্যান সহ বিভিন্ন গাড়ি নষ্ট হয়ে জ্যামের সৃষ্টি হয়। পৌর এলাকার ব্যবসায়ী ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) তারেক ইবনে মুজিব বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ সড়কটি আরো বেশি ভেঙে গেছে। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনের সড়কে সবসময় পানি জমে থাকে। এর কারণ হলো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সড়কটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথের (সওজ) এর উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুস ছালাম বলেন, সড়কটির দুই পাশের ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসনের জন্য ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ খাতে জমা হয়েছে। প্রাক্কলন পাস হয়ে এলে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসনের জন্য নোটিশ করা হবে। তিনি দ্রুতই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।