মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর এলাকার ঘোণাপাড়া মহল্লার মঞ্জুর কাদেরের ছেলে যুবদল নেতা মো. সালাউদ্দিন । বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দুটি নাশকতার মামলায় মামলার আসামী হয়ে দীর্ঘদিন হাজতবাস করেন। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর সালাউদ্দিন আবারও ২০২৩ সালের সিংগাইরের আলোচিত চারটি হত্যাকান্ডের মামলাও এজারভূক্ত আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যুবদল নেতা মো. সালাউদ্দিন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট তৎকালীন সিংগাইর থানার এস আই মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে সিংগাইর থানার একটি নাশকতার মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৬২। বাদী নাশকতার অভিযোগে মোজ্জামেল হক সেতুকে ১নং আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার এজারভূক্ত ৪নং আসামী করা হয়েছিল মো. সালাউদ্দিন। ওই মামলায় মো. সালাউদ্দিন প্রায় ৪২ দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি হয়। এর আগেও তিনি ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর থানার এস আই মো. জিহাদ দেওয়ান বাদী হয়ে আরো একটি নাশকতার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার ১নং আসামী করা হয় জেলার ঘিওর থানার কুস্তা গ্রামের আকবর আলী খানের ছেলে মাওলানা মো. আবু ইউসূফকে এবং সেই মামলার তদন্ত শেষে ৩৭ জনের নামে অভিযোগ পত্র (চার্জশিট) দেয়া হয়। সেই চার্জশিটে ২৮ নং আসামী করা হয় যুবদল নেতা মো. সালাউদ্দিনকে। সেই মামলাও মো. সালাউদ্দিন এক মাসের উপরে কারাভোগ করেন।
এদিকে, ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী সিংগাইর পৌর এলাকার গোবিন্দল নতুন বাস স্ট্যান্ডে সকাল ১০ টার দিকে ইসলামী সমমনা দলের একটি বিক্ষোভ মিছিল হয় । সেই আন্দোলনে তৎকালীন সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বলধারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল মাজেদ খানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, পুলিশ এবং ইসলামী দলের নেতাকর্মীদের সাথে সংর্ঘষ ঘটে। সেই ঘটনায় উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের চারজন ব্যক্তি নিহত হন। তৎকালীন সময়ের আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা করার মত কোনো অবস্থা না থাকায় গত ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর সিংগাইর থানায় ১০৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৫০০/৬০০ জনকে আসামী করে নিহত নাজিম উদ্দিনের পিতা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে যুবদল নেতা মো. সালাউদ্দিনকে ১২ নাম্বার আসামী করা হয়। বর্তমানে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন নেন। ভুক্তভোগী সালাউদ্দিন জানান, আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি নিম্ম আদালতে আত্মসমর্পন করবেন। তিনি আরো বলেন, আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী সরকার ২টি নাশকার মামলা দিয়েছে। সেই দুই মামলায় মামলায় ৭৯ দিন কারাভোগ করেছি। বিএনপির কিছু নেতা আমার পারিবারিক শত্রুতার কারণে আমাকে হত্যা মামলায় আসামী করেছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে কোনোভাবে জড়িত নয় বলেও দাবি করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক বিএনপি নেতা এবং কর্মীরা বলেন, ফ্যাসিবাদ আওয়ামী সরকারের আমলে নাশকতার মামলার আসামী হয়ে কারাভোগকারী একজন যু্বদল নেতা কিভাবে এই হত্যাকান্ডের মামলায় আসামী করা হয়েছে তা বুঝতে পারছি না। সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জে.ও. এম তৌফিক আজম বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে ২টি নাশকতার মামলায় যুবদল নেতা জেল খাটা এবং বর্তমানে একটি হত্যা মামলার আসামী হওয়ার বিষয়টি আমরা অধিকতর তদন্ত করে দেখবো। এই মামলার ঘটনার সঙ্গে যারা ঘটনার সাথে জড়িত নয়, তদন্ত শেষে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায়ও আনা হবে।

