২৪ ঘন্টার মধ্যে বাবলু দত্ত হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ২ জন গ্রেফতার, হত্যার কাজে ব্যবহৃত ২ টি চাপাতি, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৭ জুন নিহতের ছেলে দিপু দত্ত থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করেন যে, ২৬ জুন দিপু দত্ত ও তার বাবা সকাল অনুমান ৯ ঘটিকায় কৈয়া বাজারস্থ জেলের মোড়ে অবস্থিত তাদের দোকানে যান। দিপু দত্তের বাবা দোকান থেকে রাজমিস্ত্রী কাজের জন্য কুলটি যান। রাত ৮ ঘটিকার সময় তার বাবা দোকানে আসেন। এরপর দিপু দত্তের বাবা রাত অনুমান ৮.৩৫ ঘটিকায় মটর সাইকেল নিয়ে দোকান থেকে পুনরায় বের হয়ে যান। তারপর হতে ভুক্তভোগীর বাবার সাথে বাদীর আর কথা হয় নাই। রাত অনুমান ১১ ঘটিকায় প্রতিবেশি বৃত্তান্ত দিপু দত্তের কাছে ফোন করে জানান যে, দেবাশীষের মেহগুনি বাগানের পাশে রাস্তার উপর দিপু দত্তের বাবার মটর সাইকেলটি প্রায় একঘন্টা যাবৎ রাখা আছে। তখন দিপু দত্ত তার বাবার মোবাইল নম্বরে ফোন করে, কিন্তু ডায়াল হলেও রিসিভ না করায় তিনিও তার ধর্ম মামা সুমন শেখ সহ দেবাশীষের মেহগুনি বাগানের সামনে এসে বাবলু দত্তের মটর সাইকেলটি রাস্তার উপর দেখতে পান। তখন মামা বলেন মটর সাইকেলটি এখানে আছে তাহলে তোর বাবা কোথায় খুঁজে দেখ। দিপু দত্ত মোবাইলের লাইট জালিয়ে খোঁজা-খুজি করাকালে দেবাশীষের মেহগুনি বাগানের ২০/২৫ গজ ভিতরে তার বাবার গলা কাটা রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামীদের সনাক্ত করে হরিণটানা থানা পুলিশ কৈয়াবাজার এলাকা এবং খুলনা জেলার ফুলতলায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সুমন শেখ (৪৫), পিতা-মোঃ রুস্তম শেখ এবং মুক্তি মোল্যা (৫৩), পিতা-শামছুর মোল্যাকে গ্রেফতার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদ্বয় বাবলু দত্তকে জবাই করে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে। তাদের দেখানো মতে রাজবাধ দক্ষিণপাড়াস্থ অরুন বাবু ও প্রদীপ বাবুর প্লটের ইটের সলিং রাস্তার পশ্চিম পাশে কথিত রউফ সাহেবের খালের পানির মধ্য হতে ২ টি ধারালো লম্বা চাপাতি, তাদের হেফাজত হতে ২ টি মোবাইল ফোন এবং ১ টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। থানার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে গ্রেফতারকৃত আসামী সুমন শেখের বিরুদ্ধে ২ টি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আরোও কোন মামলা আছে কী না তা যাচাই করা হচ্ছে। নির্মম এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

