গাজীপুর জেলা বিএনপির অধীনে বিভিন্ন উপজেলা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। ত্যাগী ও বিগত সরকারের রোষানলে পড়ে মামলা-হামলায় জর্জড়িত নেতাকর্মীকে বাদ দিয়ে কমিটি ঘোষণা করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর উপজেলায় আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদে যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তারা বিগত আন্দোলন সংগ্রামে তেমন ভুমিকা রাখেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও জেলার অধিনস্ত সকল ইউনিটের কমিটি একই ধরণের হওয়ার বিধান থাকলেও কোথাও আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদ রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে কোথাও ৪ জনের স্বাক্ষরে কমিটি হবে আবার কোথাও হবে ৩ জনের স্বাক্ষরে। আবার কোথাও রাখা হয়েছে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের পদ।
জানা গেছে, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় কমিটি ঘোষণার পরই কালিয়াকৈরে বিক্ষোভ করে বিএনপির সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদের অনুসারীরা। পর দিন তাদের গ্রুপ ও ঘোষিত কমিটির গ্রুপেরা দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এর জের ধরে গত সোমবার গভীর রাতে ডিবি পরিচয়ে আটক করা হয় হেলাল উদ্দিন ও পারভেজ আহমেদকে। পরে হেলাল উদ্দিনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও পারভেজের নামে একটি মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। জানা গেছে হেলাল ও পারভেজ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনেও একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছেন। তাদের নামে ২৬-২৭ করে মামলাও রয়েছে। এদিকে হাসিনা সরকারের পতনের পরও পারভেজকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গাজীপুর জুড়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জানানো হবে বলে জানা গেছে। এদিকে গাজীপুর সদরে সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন রিজভীকে সদস্য সচিব না করায় বিক্ষোভ করেছে তার অনুসারীরা। শ্রীপুরেও সাবেক উপজেলা সভাপতি শাহজাহার ফকির ও সদস্য সচিব আক্তারুল আলম মাষ্টারকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়নি। তাদের অনুসারীরাও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তারাও বিগত হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে ৫ আগষ্টের পর তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

