ঢাকাSunday , 15 June 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জিএম স্বদেশ কুমারের অর্থ বাণিজ্য
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে বানিয়েছেন দুর্নীতির আখড়া

Link Copied!

ছিলেন ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের কাছের লোক। তার নাম ভাঙ্গিয়ে চালিয়েছেন নানা ধরণের অপকর্ম। ঘুষ দুর্নীতি আর লুটপাটের মহোৎসব চালিয়ে হয়েছেন টাকার কুমির। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী গ্রেফতার হলেও এখনো বহাল তবিয়তে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন তার অপকর্ম। এদিকে বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলতে দিনরাত লোড শোডিং দিয়ে অতিষ্ট করে তুলেছেন গ্রাহকদের। জিএম স্বদেশ কুমারএখন মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রমতে, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির শুধুমাত্র ট্রান্সফরমার জালিয়াতি করে তিনি গাংনী ও বামুন্দি অফিসের মাধ্যমে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। আর এতে বামুন্দি সাবজোনাল অফিসের এজিএম জেরিন অফিসের নির্ধারিত দালাল তাজুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হক সহযোগীতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানান, স্টোরে মজুদ থাকলেও বিনামূল্যের ট্রান্সফার পেতেও দিতে হয় টাকা। তিনি গ্রাহকদের নীতিমালার প্যাঁচে ফেলে কিনে নিতে বাধ্য করেছেন। কিন্তু ঘুষ দিলেই মিলছে ট্রান্সফরমার। খোদ জেনারেল ম্যানেজার, এজিএম, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার এই ট্রান্সফরমার বাণিজ্যসহ সকল সেবা কাজের দালাল চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আর তাদেরকে পেশি শক্তি দিয়ে আশ্রয় দিয়ে আলোচনায় রয়েছেন একজন ঠিকাদার। কয়েকজন জানান, গ্রাহক পর্যায়ে যখন ট্র্যান্সফরমারের প্রয়োজন হলে স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ানদের মাধ্যমে আবেদন করানো হয়। আবেদন দেখে আবেদনকারীকে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্বদেশ কুমারের কাছে পাঠিয়ে দেন তার নির্ধারিত দালালরা। ট্রান্সফরমার সংকট দেখিয়ে গ্রাহককের পুরো টাকা দিয়ে কিনে নিতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এতে ভীত হয়ে পড়েন গ্রাহক। গ্রাহকদের নানা অনুরোধের পরে জিএম তার নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দেন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে। সেই ব্যক্তিদের সাথে গ্রাহকের আলোচনা হয় এবং ২০-৩০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে সংযোগের জন্য ট্রান্সফরমার পেয়ে থাকেন গ্রাহকরা। আর কথিত এই দালালদের সাথে আলোচনায় যদি কেউ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে টাকা দিয়ে ট্রান্সফরমার কিনতেও ভোগান্তি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে গ্রাহকরা ঘুষ কিংবা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অর্থ জমা দিয়ে তাদের খুশি রেখে ট্রান্সফরমার নিয়ে থাকেন। একটি সূত্র মতে, মেহেরপুরে বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকে ডিপোজিটের টাকা রাখার কথা থাকলেও সেই ডিপোজিট ভেঙে চুয়াডাঙ্গার ব্যাংকে রাখা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার ব্যাংকগুলোতে রাখার ফলে কোটিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা জিএম স্বদেশ কুমার তুলে নিতে পারেন। অভিযোগ উঠেছে, একজন লাইনম্যানকে বদলি করতে তিনি ঘুষ নেন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেন। প্রায় এ লাইনম্যান এবং বিলিং এর লোকজনকে বদলি করে আবার পুনরায় নিয়ে আসেন টাকার বিনিময়ে। মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে সাধারণ চাকরিজীবীদের সাথে কিছু টাকা কেটে একটা ফান্ডে জমা রাখা হয়। জিএম স্বদেশ কুমার সেখান থেকেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে টাকা তুলে নেন। এই গেমের পাঁচটি ইনক্রিমেন্ট হেলথ আছে দুর্নীতির দায়ে। বিভিন্ন অফিসারের বাৎসরিক এসিয়ার দেওয়ার নাম করে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নেন। টাকা না দিলে এসিয়ার কম দেন তিনি। জিএম স্বদেশ কুমার, সমিতির এমএস, জিএস, এজিএম কম ৩ জন মিলে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে হরিলুটে পরিণত করছে। মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার মোজাম্মেল হকের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, কাটআউটসহ অন্যান্য মালামাল কিনতে জিএমের সাথে হাত করে চালিয়ে যাচ্ছেন দুর্নীতি। ঠিকাদার মোজাম্মেল হকের কোনো কাজ না থাকলেও প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জিএম স্বদেশ কুমারের সাথে দেখতে পাওয়া যায়। যা অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ছে। এছাড়া বিভিন্ন মালামাল সংকট দেখিয়ে নিজের পছন্দের দোকান থেকে মালামাল নেয়ার জন্য গ্রাহকদের বলে থাকেন জিএম স্বদেশকুমার। ফলে সেখান থেকেও নিয়ে থাকেন একটা পার্সেন্ট। জানা গেছে, অফিসের এজিএম কম তিতাশ হোসেনের সাথে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সম্পা রায়ের সাথে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হলে চাকুরী খাওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পল্লী বিদ্যুতের চাকুরী বিধি অনুযায়ী কারো কোনো নৈতিক স্থলন ঘটলে চাকুরী হারানোসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা থাকলেও অভিযুক্তরা মোটা অংকের টাকা দিয়ে রেহায় পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিতাশের স্ত্রী তোর স্বামী মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুতের এ,জি,এম তিতাস হোসেন ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সম্পা রায়ের বিরুদ্ধে জিএমের কাছে অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে আর,ই,বি ঢাকাতে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে আর,ই,বি জি,এম সম্পা রায়কে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে বদলি করে দেয়। জানা গেছে, এজিএম কম তিতাস হোসেনকে দিয়ে জি,এম স্বদেশ কুমার কে,বি বিক্রি, কাটাউট বিক্রি, লাইনের কাজ থেকে টাকা রোজগার করিয়ে থাকেন। জানা গেছে, জি,এম স্বদেশ রায় কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে চাকুরি করার সময় দুর্নীতি করার জন্য আর,ই,বি ঢাকা হেড অফিস তার ৫টা ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দিয়েছিল। যা এখনও বন্ধ আছে। জানা গেছে, জিএম স্বদেশ রায় মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে যোগদান করার পর এখানে প্রায় ৫০০ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জিএম স্বদেশ কুমার, এজিএম তিতাস ও গাংনী জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আখতারুমাজ্জামান সিন্ডিকেটের এই ৩ জনের সাথে ট্রান্সফরমার জালিয়াত চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ঠিকাদার মোজাম্মেল হক। তিনিই জিএম স্বদেশ কুমারের সব অপকর্ম ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। স্থানীয় পেশি শক্তি ব্যবহার করে বর্তমানে ঢাল হিসেবে স্বদেশ কুমারের অপকর্ম আড়াল করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। স্বদেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলকারীদের বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন ঠিকাদার মোজাম্মেল হক। জানা গেছে, পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ছবি, লগো ও স্লোগান সম্বলিত মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৫ আগস্টের পর কয়েকমাস ধরে বাড়ি বাড়ি বিতরণ করেছিলেন। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে বিভিন্ন মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। এর জন্য জিএম স্বদেশ কুমার ঘোষকে ফ্যাসিবাদী প্রীতিকে দায়ী করেছেন অনেকে। জিএম ইমেজ সংকটে পড়েন। উঠে আসতে থাকে তার নানা প্রকার দুর্নীতির চিত্র। জিএম এর দুর্নীতি চক্রের এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত একটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। তবে এসব ঠিক করে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামেন ঠিকাদার মোজাম্মেল হক। তিনি প্রায় সব সময়ই জিএম এর আশেপাশে ঘুরঘুর করেন। মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুতের অঘোষিত ত্রাণকর্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করেন। তার উপর ভর করেই জিএম পূর্বের মতই ঘুষ বাণিজ্যে আবারও লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মোবাইলে যোগাযোগ করলে মোজাম্মেল হকের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। এদিকে, গাংনীর ওই দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ট্রান্সফরমার কিনে নিতে হবে শুনে গ্রাহক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। টাকা দিয়ে ট্রান্সফরমার কিনে লোড বাড়ানো সম্ভব নয় বলে অপরাগতার কথা জানিয়ে দেন গ্রাহক। এর এক পর্যায়ে জিএম স্বদেশ কুমার, এজিএম তিতাস হোসেন ও জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আখতারুজ্জামান চক্র একজন কথিত দালাল প্রেরণ করেন ওই প্রতিষ্ঠানে। জিএম, এজিএম এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়রকে ম্যানেজ করতে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। এ টাকা দিলেই তারা বিনামূল্যে ট্রান্সফরমার লাগিয়ে দিবেন বলে আশা দেন ওই কথিত দালাল। স্যারদের (জিএমএম, এজিএম, জুনিঃ ইঞ্জিনিয়র) পক্ষ থেকে এ খবর গ্রাহককে দিতে বলা হয়েছ বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় দাতব্য প্রতিষ্ঠানটির লোড অদ্যবধি বাড়ানো হয়নি বলে জানা গেছে। জরুরী প্রয়োজন হলেও লোড ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি না করায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। তবে সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্বদেশ কুমার বলেন, একটি গতানুগতিক অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসলে এসব অভিযোগের সবই মিথ্যা। ট্রান্সফরমার প্রতারণা ও ঘুষের সাথে কাউকে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।