“আমি শুধু আমার কষ্টার্জিত টাকা চাইতে গিয়েছিলাম। অথচ সেদিন আমি রক্তাক্ত হয়ে ফিরেছি হাসপাতালের বিছানায়। আমার ভাইও রেহাই পায়নি…” কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন মোংলা বন্দরের শ্রমিক রবিউল মুন্সী। ২৯ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে মোংলার মামার ঘাট সংলগ্ন মেসার্স আখি এন্টারপ্রাইজের সামনে এই ঘটনা ঘটে। রবিউল জানান, প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সুদি কারবারি হিসেবে পরিচিত নূর ইসলাম বাবুল তার ন্যায্য পাওনা ৬৫ হাজার টাকা পরিশোধ না করে ঘুরিয়ে আসছিলেন বহুদিন ধরে। শেষমেশ টাকা চাইতে গেলে বাবুল ও তার সহযোগী লিটন, হাসান এবং মামুন তার ওপর চড়াও হন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের পাশাপাশি রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে তাকে ও তার ভাইকে রক্তাক্ত করেন। আশপাশের দোকানি ও পথচারীদের সহায়তায় তারা হাসপাতালে পৌঁছান। ঘটনাস্থলে থাকা পথচারী আরিফ বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের মাটিতে পড়ে থাকতে দেখি। ভ্যানে উঠাতে গেলে আমাকেও মারধর করে ওরা। পরে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। রবিউল দাবি করেন, বাবুল দীর্ঘদিন ধরেই মোংলা বন্দরের বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্টিভিডার কোম্পানিতে উইঞ্চম্যান, ক্রেন ড্রাইভার, ডাক আল বিভিন্ন ধরনের শ্রমিক সরবরাহ করে আসছে। আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারা ছিল সুদি বাবুলর সহযোগী আওয়ামী লীগের প্রভাবকে ব্যবহার করে বুনে গেছে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কোটি কোটি টাকার মালিক। এই সুদি বাবুল শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি থেকে বঞ্চিত করে। একজন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্টিভিডার কোম্পানিতে ক্রেন ড্রাইভারের প্রকৃত মজুরি ২২৪৬ টাকা হলেও বাবুল দেন মাত্র ৯০০ টাকা। আর মুখ খুললেই বন্ধ করে দেন চাকরি। তিনি বলেন, আমাকে একপর্যায়ে অন্য কোম্পানিতেও চাকরি করতে দেয়নি। পরিবার নিয়ে অনাহারে থাকার মতো পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে আবার তার অধীনে কাজ শুরু করি। ৫-৬টি জাহাজের কাজ করেও কোনো মজুরি পাইনি। সেই পাওনা চাইতেই আমাকে ও আমার ভাইকে রক্তাক্ত করে ফেলে গেল। ঘটনার পর মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। থানার অফিসার ইনচার্জ আনিসুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নূর ইসলাম বাবুল বলেন, এসব পুরোপুরি মিথ্যা ও সাজানো নাটক। রবিউল বহুদিন আগে কাজ ছেড়েছে। আমার প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

