ঢাকাMonday , 5 May 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মির্জাপুরে মুষ্টির চালে রাস্তা নির্মাণ, দুই ইউএনওর কাঁচা রাস্তা পাকা করার প্রতিশ্রুতি

Link Copied!

গত ৫ বছর ধরে মুষ্টির চাল জমিয়ে সেই চালের টাকা দিয়ে এক কিলোমিটার মাটির কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করেছে গ্রামবাসী। রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেড়া ইউনিয়নের গবড়া গ্রামে। যুগযুগ ধরে অবহেলিত ও যোগাযোগের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলের দুর্ভোগের শেষ নেই গ্রামবাসির। মানবিক ভাবেই গ্রাম বাসি এই কাঁচা রাস্তা নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছেন। রাস্তা নির্মাণের খবর পেয়ে রবিবার মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম ও দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাব্বির আহমেদ সেখানে যান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাস্তাটি পাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার আগমনে ও রাস্তা পাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি শুনে এলাকাবাসি খুবই খুশি হয়েছেন। জানাগেছে জেলার মির্জাপুর, দেলদুয়ার ও বাসাইল এই ৩ উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম গবড়া। গবড়া গ্রামের পাশেই রয়েছে ভাতকুড়া, ডুবাইল, মহেড়া ও স্বল্পমহেড়া গ্রাম। এলাকাটি নিচু হওয়ায় এবং রাস্তা না থাকায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রামবাসি। গত ৫ বছর ধরে সমাজবাসির মুষ্টির চাল প্রায় আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। আর গ্রামবাসি ১ লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে রাস্তায় মাটি ফেলার কাজ শুরু করেন। গত এক মাসের ব্যবধানে গ্রামবাসি মিলে প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগি করে তুলেন। গ্রামবাসি এখন রাস্তাটি পাকা করনের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন। আব্দুল হালিম, হাফিজ উদ্দিন ও কলেজ ছাত্র সামানসহ অন্তত ২০ জন গ্রামবাসি জানায়, গ্রামের একটি পাকা রাস্তার জন্য তারা যুগ যুগ ধরে স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের নিকট আবেদন করে আসছেন। রাস্তা নির্মানের জন্য স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও কোন বরাদ্ধ পাননি। শুনেছেন শুধু আশার বাণী। কাজ বলতে কিছুই হয়নি। গ্রামের ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজে ও মাদ্রাসায় রাস্তার অভাবে ঠিকমত চলাচল করতে পারে না। শুকনো মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে হাটু পানি, কাঁদা এবং কোন কোন সময় কোমর পানি। বর্ষা মৌসুমে ডুবে থাকে পুরো এলাকা। গ্রামের কোন লোকজন অসুস্থ্য হলে এবং মহিলাদের বাচ্চার প্রসব ব্যথা হলে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। এভাবেই কেটে গেছে ৫৪ বছর। অবশেষে গ্রামবাসি মিলে উদ্যোগ নেওয়া হয় মুষ্টির চাল তুলে অন্তত রাস্তাটি ৩/৪ ফুট উচু করা। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুষ্টির চালে নির্মিত হচ্ছে গ্রামের কাঁচা রাস্তা এমন খবর ছড়িয়ে পরলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। রবিবার মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম ও দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাব্বির আহমেদ অবহেলিত গবড়া গ্রামের এই কাঁচা রাস্তা পরিদর্শনে যান। এ সময় মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কহিনুর রহমান, দেলদুয়ার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রওশন করিম এবং মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার বিভাস সরকার নুপুর উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম ও দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাব্বির আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, গবড়া গ্রামাটি ৩টি উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় বিভিন্ন দিক দিয়েই অবহেলিত। স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যানগণ ও বিষয়টি প্রশাসনকে তেমন ভাবে বলেনি। আমরা এলাকা পরিদর্শন করে দেখেছি রাস্তাটি পাকা হওয়া খুবই জরুরী। উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে গবড়া গ্রামের রাস্তাটি পাকা করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।