পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ সাথী আক্তার হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। নিহত সাথীর স্বামী আব্দুর রশিদ মিন্টু ও সৎ ছেলে জিসানকে আটকের পর এতথ্য বেরিয়ে এসেছে। হত্যার ২৪ ঘন্টার মধ্যে মনিরামপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিডি পুলিশ তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি কুড়াল ও শীলের নোড়া উদ্ধার করে। তাদেরকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে পারিবারিক কলহের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। গত সোমবার সকালে মণিরামপুর উপজেলার খাটুয়াডাঙ্গা আফতাব মুন্সি মোড়ের একটি চাতাল ঘর থেকে পুলিশ খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রশীদ মিন্টুর স্ত্রী সাথী আক্তারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি চাতাল শ্রমিক বলে জানাযায়। এই ঘটনার পর বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী আব্দুর রশীদের চাতাল ও চালকল ভাঙচুর করে। এ সময় তার চাতাল ও চালকল সংলগ্ন বাড়ির আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া বিক্ষুদ্ধরা। খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রশিদ মিন্টু কয়েক বছর আগে সাথীকে বিয়ে করেন। এরপর তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে। দেড় বছর আগে তারা পুনরায় আবার বিয়ে করে। সাথী চাতালের একটি ঘরে থাকতেন ও চাতালে কাজ করতেন। গত সোমবার সকালে কয়েকজন শ্রমিক চাতালে কাজ করতে এসে ঘরে সাথীর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পায়। পরে তারা বিষয়টি এলাকাবাসীদের জানালে তারা পুলিশে খবর দেন। মণিরামপুর থানা ও নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পুলিশ এসে দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর দুপুর একটার দিকে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী আব্দুর রশীদ মিন্টুর চাতাল ও চালকল ভাঙচুর করে। এ সময় কিছু লোকজন তার চাতাল চালকল সংলগ্ন বাড়ির আসবাবপত্র লুট নিয়ে যায়। স্থানীয়রা আরো জানান, আব্দুর রশিদ মিন্টু একসময় অস্ত্র কেনাবেচার কাজ করতেন। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়েন। এরপর প্রায় ১০ বছর সাজা খেটে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে সাথীকে বিয়ে করেন। পুলিশ জানায়, রোববার দিবাগত রাতে সাথীকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। তার গলা, মাথা এবং কপালে ধারালো অস্ত্রের অনেকগুলো কোপের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ ধারণা করে আব্দুর রশীদ তার স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা করেছে। সেই আলোকে আটক অভিযান শুরু করে ডিবি পুলিশ। ঘটনার পর থেকে আব্দুর রশীদ, তার বড় স্ত্রী ও ছেলে এবং পুত্রবধূ পলাতক থাকায় সন্দেহ বেড়ে যায় ডিবি পুলিশের। সন্দেহের জেরে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও মনিরামপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে স্বামী আব্দুর রশিদ মিন্টু ও তার সৎ ছেলে জিসানকে আটক করেছে। এ ঘটনায় নিহত সাথীর বড় ভাই শহিদুল ইসলামের করা হত্যা মামলায় তাদেরকে আটক দেখিয়ে আদালতে চালান দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির অফিসার ইনচার্জ মনঞ্জুরুল হক।

