ঢাকাSunday , 27 April 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুন্দরবনে বেপরোয়া হরিণ শিকারি চক্র
বছরের প্রথম ৪ মাসে ৫৫৫ কেজি মাংস উদ্ধার

Link Copied!

সুন্দরবনে হঠাৎ করেই বেড়েছে সংঘবদ্ধ হরিণ শিকারি চক্রের তৎপরতা। ম্যানগ্রোভ এ বনের হিংস বাঘ আর নোনাজলের রাক্ষুসে কুমিরের থাবা থেকে রেহাই পেলেও চোরা শিকারিদের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না চিত্রাহরিণ। সাম্প্রতিক সময় সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগে অন্তত দেড় শতাধিক হরিণ শিকারি চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একের পর এক হরিণের মাংস, চামড়া, ফাঁদসহ শিকারি চক্রের একাধিক সদস্য আটক হলেও বনাঞ্চলে চোরা শিকারিদের তৎপরতা যেন মোটেও দমছে না। জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) জরিপের তথ্য মতে, বর্তমানে সুন্দরবনে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি হরিণ রয়েছে। এর আগে ২০০৪ সালে হরিণের সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার। সেই হিসাবে ১৯ বছরের ব্যবধানে সুন্দরবনে হরিণ বেড়েছে ৫৩ হাজার ৬০৪টি। তবে সম্প্রতি হরিণ শিকারি চক্রের তৎপরতাও রেড়েছে। নাইলনের ফাঁদ, জাল পেতে, স্প্রিং বসানো ফাঁদ, বিষটোপ, গুলি ছুড়ে, কলার মধ্যে বর্শি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা ফাঁদসহ পাতার ওপর চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে হরিণ শিকার করছে চক্রটি। সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগে অন্তত দেড় শতাধিক চোরা শিকারি চক্র সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারে তৎপর রয়েছে। কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের তথ্য মতে, গেল জানুয়ারি মাস থেকে চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত সুন্দরনের অভ্যন্তরীণ নদী-খাল ও বনসংলগ্ন লোকালয় কোস্ট গার্ড পুলিশ ও বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে হরিণের একাধিক মাথা, চামড়া ও পা সহ বছরের প্রথম ৪ মাসে ৫৫৫ কেজি মাংস জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়া দুটি জীবিত ও একটি মৃত হরিণ উদ্ধার এবং শিকারিদের ব্যবহৃত নৌকাসহ শিকারি চক্রের অন্তত ২০ সদস্যকে আটক করা হয়। গত ৩ মাসে হরিণ শিকারের অন্তত ২০টি ঘটনা ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী (পরিবেশবিদ ও সুন্দরবন গবেষক) শুভ্র শচীন বলেন, সম্প্রতি সুন্দরবনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কয়েকটি চোরা শিকারি চক্র। গরু ও খাসির মাংসের তুলনায় হরিণের মাংসের দাম কম হওয়ায় সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় এই বন্যপ্রাণীর মাংসের চাহিদা বাড়ছে। তিনি বলেন, দু-একটি অপরাধমূলক এ ঘটনা নজরে এলেও মূল অপরাধী (প্রভাবশালীরা) চক্রের সদস্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নূর আলম শেখ বলেন, বন বিভাগকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। ম্যানগ্রোভ এ বনে অপরাধী চক্রের তৎপরতা দমন না হলে প্রাণীকুল ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান (পরিবেশবিদ) ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে চোরা শিকারি চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘ-হরিণসহ প্রাণীকুলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। এ অবস্থায় সুন্দরবনের অভ্যন্তরে হরিণ শিকারি চক্রের তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন ও পরিবেশবিদরা। খুলনা অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মো. এমরান আহম্মেদ বলেন, বন বিভাগের বিভিন্ন স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীদের বনের অভ্যন্তরে টহল ব্যবস্থা বাড়ানো, নজরদারি বৃদ্ধিসহ নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার মেহেদী হাসান জানান, বণ্যপ্রাণী হত্যা পাচার রোধ করতে কোস্ট গার্ড সদস্যদের অভিযান চলমান রয়েছে।