ঢাকাSaturday , 26 April 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শ্রীপুরে হকার ও ইজারাদার সংঘর্ষ

Link Copied!

গাজীপুরের শ্রীপুরে ইজারাদার ও হকারদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৭০ জনকে আসামী করে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে। শনিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে ইজারাদর কাজল ফকির বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। শ্রীপুর থানার ইন্সপক্টের (তদন্ত) শামীম আখতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো শ্রীপুর উপজেলার কপাটিয়াপাড়া গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রীপুর পৌর শাখার সভাপতি কামাল হোসেন (৪৩) এবং ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের পস্তাইল গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মাওনা চৌরাস্তার ফল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (১৮)। তাদেরকে গত রাতে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার (২৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে তাদেরকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) মাগরিবের নামাজের সময় শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তায় ইজারাদার ও হকারদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহতরা হলেন নজরুল বেপারী (৬০), তেলিহাটি ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি আতিক বন্দোকশী (৪৬) এবং ইমরান (২৫)। তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা ইজারাদর কাজল ফকির এবং সেলিমের পক্ষের লোক বলে দাবী করেন। আহত অন্যান্যরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে ছোটবড় একাধিক অস্থায়ী ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা দুপুরের পর থেকে দোকান খুলে বসি। অনেকে ভ্যান গাড়ীর উপর মালামাল রেখে বেচাকেনা করছে, কেউ কেউ দাঁড়িয়ে মুড়ি বা চানচুর বিক্রি করছে। যারা স্থায়ীভাবে নিয়মিত দোকান খুলে বসছে তাদের কাছ থেকে ইজারাদাররা ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্তও নিরাপত্তা চুক্তি (অ্যাডভান্স) নিয়েছে। পৌরসভা থেকে যারা ইজারা পেয়েছে তারা আমাদের ছোটবড় প্রত্যেক দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে ইজারা তুলছে। প্রতিবাদ করলেই দোকান উচ্ছেদের হুমকি দেয়। সারাদিন বিক্রি করে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয়। তা থেকে ইজারাদারকে ১০০ টাকা দিয়ে দিলে আর থাকেই বা কতো? আমাদেরকে রশীদ দিলেও রশীদে টাকার কথা উল্লেখ করছে না। পৌরসভা থেকে ইজারা নিলেও মাওনা চৌরাস্তার উত্তরে বেশিরভাগ জায়গা তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের। পৌরসভার ইজারা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন এলাকা থেকে তারা জোরপূর্বক টাকা আদায় করছেন? আগে আমাদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে ইজারা নিয়েছে। চলতি বৈশাখের শুরু থেকে প্রতি দোকান থেকে ১০০ টাকা করে ইজারা নিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ জুলুম। ইজারাদর কাজল ফকির বলেন, পৌরসভার দরপত্রের মাধ্যেমে আমি চৌরাস্তা বাজার ইজারা পেয়েছি। পহেলা বৈশাখ থেকে নিয়মিত আমার লোকজন ইজারা উঠাচ্ছে। আওয়ামী লীগের আমলে একটি হকার্স কমিটি করা হয়েছিল। সেই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কয়েকজন হকার নিয়ে আমাদের পক্ষের লোকদেরকে উপর হঠাৎ করে হামলা করে আহত করে। তাদের হামলায় আমাদের ২০ জন আহত হয়েছে। বৈধভাবে শ্রীপুর পৌরসভা থেকে মাওনা চৌরাস্তা অস্থায়ী বাজার ইজারা নিয়েছেন দাবি করেন শ্রমিকদলের বহিষ্কৃত নেতা কাজল ফকির ও সেলিম। হকার্স কমিটির জাহিদ বলেন, মাওনা চৌরাস্তায় হকারদের কাছ থেকে অব্যাহত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রীপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই প্রতিবাদের জেরে কাজল ফকির এবং সেলিম মিয়া দেড় থেকে দুই’শ সশস্ত্র লোকজন নিয়ে হকারদের ওপর হামলা করে। তারা আমাকে এবং হকার্স কমিটির শ্রীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মামুন মিয়াকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ কাছে সড়ক ও জনপথের জায়গা পৌরসভা ইজারা দিতে পারে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিগত ২৩ বছর যাবত মাওনা চৌরাস্তায় অস্থায়ী বাজার হিসেবে ইজারা দিয়ে আসছে। শিডিউলভুক্ত বাজার ইজারা না দিলে আগে শিডিউল বাতিল করতে হবে। বাতিল যেহেতু হয় নেই তাহলে তালিকাভূক্ত বাজার ইজারা না হলে সেই টাকা যিনি ইজারা দেন নেই তাকে ব্যক্তিগত দায় থেকে টাকা দিতে হবে। ছোটবড় সকল বিট থেকে প্রতি তিন ঘন্টার জন্য ২০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী টাকা উঠানোর জন্য ইজারাদারদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিগত সমেয় দলীয় সরকার ছিল এবং দলীয় প্রতিনিধি পৌরসভার মেয়র ছিল। তারা যদি বিষয়টি ভুল করে থাকে তাহলে আপনিও কি ভুল করবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা কি তাহলে বাজার উচ্ছেদ করতে পারছি বা বাজার উচ্ছেদ করা হয়েছে? আমার শিডিউলভুক্ত বাজার ইজারা দিব যতক্ষন না পর্যন্ত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে শিডিউল বাতিলের বা শিডিউল সংশোধনের আদেশ না দেয়, অথবা আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আদেশ পাই। আমার কাছে বিগত কয়েকদিন আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি চিঠি আসে সড়কের পাশের বাজারগুলোর ইজারা কর্যক্রম বন্ধ করার জন্য। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি), স্থানীয় সরকারের সচিব এবং ঢাকা বিভগীয় কমিশনার বরাবর চিঠি দিয়েছি। সেই চিঠিতে আমাদেরকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি চিঠি দিয়ে আমাদেরকে বাজার ইজারা দিতে হবে না বা বন্ধ করা উচিত, তাহলে আমি ইজারা বন্ধ করে দিব। শিডিউলভুক্ত বাজার শিডিউল সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত একক সিদ্ধান্তে আমি বাতিল করলে বাজার ইজারা দিলে যে রাজস্ব আসতো সে টাকা আমার ব্যাক্তিগতভাবে দিতে হবে। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে তদন্ত করতে এসেছিল। তারা তদন্ত করেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা সকল কাগজপত্র ও চিঠিপত্র আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গেছেন। তারা জানেন এ বিষয়ে কি হয়েছে, কেন এ বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা বলছে জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তার ইজারা বাতিল করা যেতে পারে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি আগমী মে মাসের আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে বিয়টি উপস্থাপন করবো। আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে উপস্থিত সকলে একমত থাকলে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নির্দেশনা বা পরামর্শে বাজার ইজারা স্থগিত করা হবে। সড়ক ও জনপথের (সওজ) গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল আলমের সরকারি নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় এ বিষয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।