ঢাকাWednesday , 23 April 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈশ্বরগঞ্জে কাবিখা প্রকল্পের উন্নয়ন কাগজে কলমেই মাঠে দুর্নীতি

Link Copied!

কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) হত দরিদ্র, বেকার ও ভূমিহীন মানুষদের খাদ্য নিশ্চিতকরণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অসততার প্রমাণ মিলেছে। ঘটনাটি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার। নিম্নমানের কাজ, নিয়ম না মেনেই কাজ করা, কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ, এ ছাড়া এই প্রকল্পে শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই, তাছাড়াও গম বিক্রি করে দেওয়ার মত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে সয়লাব আজকে কাবিখা প্রকল্প। এমনকি অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখিয়ে নামসর্বস্ব প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে তসরুফ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে প্রকল্পের টাকা। এস্কেভেটর (স্থানীয়ভাবে ভেকু নামে পরিচিত) মেশিন দিয়ে সস্তায় মাটি কাটায় বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সরকারের গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়জোড়া গ্রামের একটি মসজিদের জন্য ১২.৪৩০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ হয়। মসজিদটির নাম দক্ষিণ বড়জোড়া বাইতুল নূর জামে মসজিদ। এই মসজিদের ঈদগাহ্ মাঠে মূলত মাটি ভরাটের জন্য এই গম বরাদ্দ হয়। কিন্তু ঈদগাহ্ মাঠে এক কোদাল মাটিও ফেলা হয়নি। এমনকি মসজিদের সাথে সংশ্লিষ্টরাও জানেননা এ বিষয়ে কিছুই। এই প্রকল্পের সভাপতি ৬নং মাইজবাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়ার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন রেখে দেন। এবং পরবর্তীতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মগটুলা ইউনিয়নের তরফ পাছাইল গ্রামে একটি রাস্তার ইটের সলিং বাবদ বরাদ্দ ১০.৭৮৯ মেট্রিক টন গম। রাস্তাটি তরফ পাছাইল গ্রামের শাহজাহান মহল্লাদারের বাড়ি থেকে মালি বাড়ি পর্যন্ত হওয়ার কথা থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক কাজই বাকি। কিন্তু ইতোমধ্যে ২ কিস্তিতে গম তুলে নিয়েছেন প্রকল্পের সভাপতি, ইউপি সদস্য শরাফ উদ্দিন। শুধু তাই নয়, মাসখানেক আগে করা এই রাস্তা থেকে ইট খুলে খুলে পাশের থাকা পুকুরে চলে যাওয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, কোনভাবেই এই রাস্তা আসন্ন বর্ষাকাল পাড় হবে কি না সন্দেহ এবং বর্ষাকালের মধ্যেই পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে বলে তারা ধারণা করছেন। এত নিম্নমানের কাজে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসীরা। ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইসলামপুর রাস্তা থেকে খৈরাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা পুননির্মাণ বাবদ বরাদ্দ হয় ৭.৮০৯ মেট্রিক টন গম। কাবিখা প্রকল্পে কাজ করানোর নিয়ম শ্রমিক দিয়ে। কাজ করা হয়েছে এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে। পুরো রাস্তায় মাটিও ঠিকমতো ফেলা হয়নি। রাস্তা থেকেই মাটি কেটে মাটি সমান করা হয়েছে অনেক জায়গায়। সরিষা ইউনিয়নের একটি রাস্তা পুননির্মাণে বরাদ্দ হয় ৪.৫০০ মেট্রিক টন গম। ইতোমধ্যে পুরো গম তুলে নিয়েছেন প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক। কিন্তু মাঠের কাজ করেছেন অর্ধেকের একটু বেশি। ধান কাটা হয়নি তাই কাজ করতে পারেননি বলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন আব্দুর রাজ্জাক। আঠারোবাড়ি ইউনিয়নে গ্রহণ করা হয় দুটো প্রকল্প। এর মধ্যে একটি সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় আর একটি সম্পূর্ণ ভুয়া। সরাতি ব্রীজ থেকে কাতিয়ার হাওর হাশেমের পুকুর পর্যন্ত একটি রাস্তা পুননির্মাণ করা হয়। এর জন্য বরাদ্দ হয় ১০.৫১ মেট্রিক টন গম। এই প্রকল্পেও কোনো শ্রমিক ব্যবহার করা হয়নি। বিধিবহির্ভূতভাবে এক্সকেভেটর (ভেকু) ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে বঞ্চিত হয়েছে এলাকার খেটে খাওয়া লোকজন। সরেজমিনে এই রাস্তার কোনো প্রয়োজনীয়তাও চোখে পড়েনি। সারাদিনে তেমন কোনো লোকজন হেঁটেও আসেন না এই রাস্তা দিয়ে, গাড়ি চলা তো বহু দূরের কথা! অথচ এলাকার লোকদের বঞ্চিত করে এক্সকেভটর (ভেকু) দিয়ে কাজ করে এমন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের কাজ ঠিকই শেষ হয়েছে। সবচেয়ে বড় হরিলুট হয়েছে আঠারোবাড়ির অন্য আরেকটি প্রকল্পে। প্রকল্পটি হলো সরাতি এমদাদুলের পানির পাম্প হতে নতুন ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তা পুননির্মাণ। আঠারোবাড়ির পূর্বের প্রকল্প এবং এই প্রকল্পটি মূলত একই রাস্তা। একই রাস্তা দেখিয়ে দুই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৯ মেট্রিক টন গম পুরোটাই আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সময় কোনো সাইনবোর্ড ও ব্যবহার করা হয়নি। কাজের বিনিময়ে গম দেওয়ার নিয়ম থাকলেও নিয়ম না মেনে সেই গম ট্রাক ভরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়ম হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের চোখের সামনে। কিন্তু কাউকেই কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাগুলোর স্থানীয় জনসাধারণ। এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, গম বিক্রি অবৈধ হলেও সবাই গম বিক্রি করে টাকা দেয়। কাবিখা প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ এরশাদুল আহমেদ বলেন, যদি কোন কাজ না করা হয় তাহলে আমি কাজ করার নির্দেশনা দিবো। আমি ইতিমধ্যেই আঠারোবাড়ির কাবিখা প্রকল্পটি পরিদর্শন করে এসেছি।