বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। রোগী ভোগান্তি চরমে। শনিবার থেকে রোগীদের ব্যবহৃত পানি নেই। পার্শ্ববর্তী নদী ও পুকুর থেকে পানি এনে ব্যবহার করছে রোগী ও তাদের স্বজনেরা। বাইরে থেকে পানি কিনে এনে পান করতে হচ্ছে তাদের। অথচ এই হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মুজাহিদুল ইসলাম দিব্যি অফিস করছেন। ইচ্ছেমতো আসছেন ইচ্ছেমত যাচ্ছেন। দেখার যেন কেউ নেই। উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রায় ৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কয়েক বছর আগেই চিকিৎসক সংকটে বন্ধ হয়েছে অপারেশন। থিয়েটারের ঝুলিয়েছে তালা। জরুরী বিভাগে হচ্ছে যৎসামান্য চিকিৎসা। সামান্য কাটাছেড়া হলেই চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা। গুরুতর হলে চিকিৎসক ও সরঞ্জাম সংকটের অজু হাতে রেফার্ড করা হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বিকল রয়েছে এক্সরে মেশিন। কিছুদিন চালু থাকলেও বর্তমানে বন্ধ আলট্রাসনোগ্রাম। দেখলেই বুঝা যায় হ য ব র ল অবস্থা। সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মুজাহিদুল ইসলামের অফিস কক্ষে তালা ঝুলানো। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সে তার ইচ্ছামতো অফিস করেন। এখানে যোগদানের পর থেকে সপ্তাহের বুধবার অফিস করে কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং রবিবার অফিসে আসেন। সর্বশেষ গত সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. শাহারিয়ার ফাত্তাহ্ বলেন, তার ছেলে অসুস্থ্য থাকায় তাকে নিয়ে ব্যাস্ত আছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পারুল বেগম, সীমা আক্তার, নাসিমা বেগম, প্রতিবন্ধী সুমাইয়া খাতুন, রোগীর স্বজন ফারুক মল্লিকসহ বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের সজনেরা বলেন, টয়েলেট অপরিস্কার দুর্গন্ধ, বদনাটারও তলা ফাটা, নিজেদের ব্যবহারের পানি নদী ও পুকুর থেকে বোতলে করে এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। খাবার পানি তাও দোকান থেকে কিনে এনে খাচ্ছি। এগুলো দেখার কি কেউ নেই?
অভিযোগের বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালে ব্যবহারের পানি তোলার ৩টি মটরের ২টি মটর অনেকদিন ধরে নস্ট রয়েছে। একটি মটর চালু থাকলেও তা কিছুদিন আগে বর্জ্রপাতে নস্ট হয়ে গেছে। বিকল্প হিসেবে রোগীদের জন্য সকাল বিকেল ২টি ড্রামে পানি রেখে হাসপাতালের পানির চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, হাসপাতালের রোগীদের সমস্যার বিষয়ে তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছেন। তাৎক্ষনিক বিষয়টি সমাধানের জন্য কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। এ সম্পর্কে বাগেরহাট জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মাহাবুবুল আলম বলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলামের ছেলে অসুস্থ্য থাকায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনিও ছেলের সাথে হাসপাতালে রয়েছেন। তবে, রবিবার সে অফিস করবে।

