খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কেসি.সির ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, জেড.এ.মাহমুদ ডন ও তার সকল অপকর্মের দোসর ছিলো এই দেলোয়ার হোসেন দেলো। একসময় সে ভাঙ্গারী ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলো। মাছ বিক্রি করতো। দোলোকে অনেকে মাছ ব্যাবসায়ি হিসাবে চিনতো পরে খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেসি.সির ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, জেড.এ.মাহমুদ ডনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে আওয়ামীলীগের রাজনিতির সাথে যুক্ত হয়। মুলত এই “দেলোই” ছিলো ডনের সকল অপকর্মের মুল হোতা। ভাঙ্গারী ব্যবসা ও মাছ ব্যাবসায়ি থেকে চোখের পলকে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যায় দেলো। মাছ ব্যবসায়ীর অন্তরালেই চলতো তার অপকর্ম ।
জানা যায়, খুলনা শহরে তার বিলাশ বহুল বাড়ী রয়েছে ৮ থেকে ১০ টা। খুলনা ডুমুরিয়া মৌজায় নামে বেনামে ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমি রয়েছে তার। খুলনা শহরেও রয়েছে জমি ও দখল করা অসংখ্য প্লট। এক কথায় দেলো খুলনা শহরের দৃশ্যমান একজন ভূমিদস্যু । খুলনা ও ঢাকায় তার অনেকগুলো ফ্লাট আছে বলেও জানা যায়। এ ব্যাপারে দুদক তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে তার সব সম্পদের হিসাব।
একটি সুত্র জানায়, সুন্দরবনের ৫ – ৬ টা ডাকাত দল আছে তার নিয়ন্ত্রনে।তা থেকে উপার্জিত অর্থ সে ডন এবং শেখ বাড়ীতে দিয়ে আসতো বাকিটা সে নিজে রাখতো। দেলোয়ার হোসেন দেলোর বিলাশ বহুল ৭-৮ টা গাড়ীও আছে । একেক সময় একেকটা গাড়ী নিয়ে সে মহড়া দিতো খুলনা শহরে। কিছুদিন আগে “দেলো” খুলনা ২ আসনের সাবেক এমপি শেখ জুয়েলকে ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার একটা বিলাশ বহুল গাড়ী উপহার দিয়েছিলো বলে জানা যায়। খুলনার একাধীক সন্ত্রাসী বাহিনী ও কিশোর গ্যং নিয়ন্ত্রন করে এই দেলো । অল্প সময়ে শেখ বাড়ীর ছত্রছায়ায় দেলো হয়ে ওঠে খুলনায় এক মুর্তিমান আতংক। তার কাছে মজুদ রয়েছে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র। সে অস্ত্র এবং মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত ছিলো বলে জানা যায়।
এই দেলো ২০২৩ সালের (১৪ আগস্ট) আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে খুলনা বসুপাড়ায় তার মাদ্রাসায় কবর না দেওয়ার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সে প্রকাশ্যে শটগান ও একাধীক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ১৪ আগস্ট ২০১৩ রাতে আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিষ্ঠিত দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার মুল ফটকে অবস্থান নিয়েছিলো।
২০২২ সালে (২৩ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগর শাখার সদস্য ও মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান সাগরের মৃত্যুর সাথেও এই দেলো জড়িত । আওয়ামী লীগ নেতা সাগর শনিবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হননি বলে তখন জানিয়েছিলো তার পরিবার। তার পরিবার বলেছিলো, ওইদিন ( ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি আমন্ত্রণে যোগ দেন তিনি। এরপর সেখান থেকে বের হয়ে কোথায় গিয়েছিলেন তা কেউ জানে না। এক পর্যায়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন তিনি কথা বলতে পারছিলেন না এবং অচেতন ছিলেন। ফলে আহত হওয়া সম্পর্কে স্বজনদের কিছুই জানাতে পারেননি তিনি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার সড়ক দুর্ঘটনার খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই রাতে তার দুই চোখ ও মুখে গুরুতর জখম হয় এবং পায়ের হাড় মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় যে ধরনের জখম দেখা যায় সাগরের গুলো ছিল ভিন্ন। তার জখম দেখে মনে হয়েছে কেউ তাকে বেধড়ক মেরেছে। তবে তার আহত হওয়ার পর এ নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও তখন সরাসরি কেউ মুখ খোলেনি । জানা যায়, শেখ বাড়ীর নির্দেশে জেড.এ.মাহমুদ ডন তাকে তার অফিসে আমন্ত্রন জানায়। রাতে ওখানেই দেলোয়ার হোসেন দেলো’র নেতৃত্বে একটি বাহিনী সাগরকে মেরে রিকসা করে খুলনা জাতি সংঘ পার্কের পাশের গলিতে ফেলে রেখে যায়। এ মিশনের পুরো দায়িত্বে ছিলেন এই দেলো । এ ছাড়া গত (৮ জুলাই ২০২৪ ) খুলনা ২৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আলামিনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন দেলোর নেতৃত্বে এই হত্যাকান্ড ঘটে। ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহাসিক বিজয় এলে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা সব পালিয়ে যায়। তখন খুলনার মাফিয়া কেসি.সির ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেড.এ.মাহমুদ ডনকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে খুলনা নিরালা থেকে পালিয়ে যায় এই কুখ্যাত দেলোয়ার হোসেন দেলো। যা সিসি ক্যামেরায় স্পস্ট দেখা যায়। উলেখ্য গত ৪ আগস্ট খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে প্রকাশ্যে সর্টগান দিয়ে গুলি করেছিলো ডন এবং দেলো। কয়েকজন ছাত্র সেদিন গুরুতর আহত হয়েছিলো সেদিন ওদের গুলিতে।
একটি সুত্র জানায়, খুলনা দোলখোলা মোড়ে ( দেলোয়ার হোসেন দেলো ) তার নিজ বাড়িতে, রাত হলেই সন্ত্রাসী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগদের নিয়ে মদের আসর বসাতো । এই বাড়িটি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো বরাবরই। অনেক পুলিশ কর্মকর্তারাও এখানে এসে মদ্যপানে বিভোর থাকতো। তার মেঝ ভাই মোজাহার হোসেন মজো খুলনা সদর থানা সেচ্ছাসেবক লীগের সহ সাধারণ সম্পাদক। সেই সুবাদে এলাকার মানুষকে ধরাকে সরাজ্ঞান করতো না। এলাকাবাসী ভয়তে মুখ খুলতো না। আজও এলাকার লোক ওদের আতঙ্কে আতঙ্কিত।
গোপন সুত্রে জানা যায়, এখন বিএনপির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই খুলনা মহানগরীর দুই এক জন উঁচু দরের নেতারা তারা বাসায় এসে সাক্ষাৎ করে গেছেন।এই সুবাদে কুখ্যাত ‘দেলোয়ার হোসেন দেলো ’ কয়েকদিন পালিয়ে থাকলেও এখন সে ২৪ নং ওয়ার্ড রায়পাড়া তার বহুতল ভবনে আছে বলে জানা যায়। জেড.এ.মাহমুদ ডনও তার সাথে একই বাড়ীতে আছে বলে বিভিন্ন সুত্র জানায়। অবিলম্বে মাফিয়া জেড.এ.মাহমুদ ডন ও তার সহযোগী দেলোয়ার হোসেন দেলোকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানিয়েছেন খুলনার সচেতন মহল।

