খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে গণমানুষের দল হিসেবে বিএনপি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনগনের পাশে অতন্ত্র প্রহরীর ন্যায় দায়িত্ব পালন করে। সর্বাত্মক সহযোগিতা নিয়ে বিএনপি বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাড়াবে বিএনপি। বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানের মধ্যদিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতাকে দেশী-বিদেশী কোনো ষড়যন্ত্রে কলুষিত হতে দেয়া হবে না। খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জবর দখলের প্রচেষ্টাকারীদের কঠোরহস্তে প্রতিরোধের আহবান জানিয়েছেন তিনি। গত রবিবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির জরুরি সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভা পরিচালনা করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ শফিকুল আলম তুহিন। তিনি বলেন, বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে পতিত আ’লীগ সরকারের পদলেহনকারী ব্যক্তিরা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উঠেপড়ে গেছে। অনুপ্রবেশকারীদের যেভাবে কঠোরহস্তে প্রতিরোধ করা হবে, তেমনি বিএনপি’র নাম ব্যবহার করে অপকর্মকারীদেরও উচিত জবাব দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তার মধ্যে রয়েছে দেশে ভয়াবহ বন্যার কবলে এক কোটি মানুষ পানিবন্দী। কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে সহযোগিতা করার জন্য এবং পাইকগাছা উপজেলায় নদী ভাঙনে দেলুটি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের ২০ হাজার পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে। পানিবন্দী মানুষের কষ্ট লাঘবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাড. শফিকুল আলম মনাকে আহবায়ক ও নগর বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ শফিকুল আলম তুহিনকে সদস্য সচিব করে ত্রাণ উপকমিটি গঠন করেছে খুলনা মহানগর বিএনপি। ত্রাণ উপ-কমিটিতে মহানগর বিএনপির সকল যুগ্ম-আহ্বায়কবৃন্দ, থানা বিএনপির আহ্বায়ক-সদস্য সচিববৃন্দ এবং মহানগরীর অন্তর্গত ক্রিয়াশীল অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক/আহ্বায়ক-সদস্য সচিববৃন্দ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত থাকবেন।
বিএনপি থেকে পদত্যাগী ও বিগত সরকারের পদলেহনকারী চিহিৃত ব্যক্তিরা ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জবরদখলের পাঁয়তারার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। স্পষ্ট করে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি কারা পরিচালনা করবে- সে সিদ্ধান্ত নিবেন খুলনার ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে খুলনা বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকরা সেই সব দখলবাজদের কঠোরহস্তে প্রতিহত করবে। একই সাথে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ।
উদ্বেগ প্রকাশ করে মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ছাত্রদল ও যুবদলের মিছিলে সম্প্রতি খুলনার পতিত স্বৈরশাষকের প্রেতাত্মারা অংশ নিচ্ছে বলে সম্প্রতি লক্ষ্যনীয়। সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুপ্রবেশকারী সম্পর্কে দলের সর্বোচ্চ হাই-কমান্ডের নির্দেশনা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বাবান জানিয়েছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। এছাড়া, সম্প্রতি মহানগরীতে দায়েরকৃত মামলাগুলো পরিচালনার করতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক স ম আব্দুর রহমানকে আহ্বায়ক করে মামলা তদারকি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। নগরীর ৫ থানা বিএনপি থেকে ১০ জন প্রতিনিধি এবং প্রতিটি থানা থেকে একজন আইনজীবী এ কমিটির অন্তর্ভূক্ত থাকবেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়ক স ম আব্দুর রহমান, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, কাজী মাহমুদ আলী, শের আলম সান্টু, আবুল কালাম জিয়া, বদরুল আনাম খান, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল ও মাসুদ পারভেজ বাবু, বিএনপি নেতা শেখ জাহিদুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল, কেএম হুমায়ুন কবির, সৈয়দ সাজ্জাদ আহসান পরাগ, হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, ইমাম হোসেন ও আক্তারুজ্জামান সজীব তালুকদার প্রমুখ।

