জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অপরিসিম। উন্নয়নে মৎস্যখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং আমিষের যোগান দিচ্ছে। চাষ ও উৎপাদনে খুলনা বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। প্রতি বছর উৎপাদন বৃদ্দি পাচ্ছে। এই বিভাগে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৭৯৭৯৭৫ মেট্রিকটন মাছ উৎপাদন হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে উৎপাদন হয়েছে ৭৫৬২২৫মেট্রিকটন মাছ। যা ৪১৭৫০ মেট্রিকটন বেশী উৎপাদন হয়েছে। জানা যায়, এই বিভাগে মাছের চাহিদা রয়েছে ৩৮৮২২৫ মেট্রিকটন। উৎপাদন হয়েছে ৭৯৭৯৭৫মেট্রিকটন এবং উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪০৬৭৫০ মেট্রিকটন। খুলনা বিভাগের ১০জেলায় মাছ উৎপাদনের ৪৫৬০৯৬টি উৎস রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন পুকুর ২৪৩৮১৯টি, বাওড় ৩৭টি, নদী১৮৩টি, খাল ১৯৯৬টি, সুন্দরবন, প্লাবনভূমি ৯২৮টি, বিল ১৪৫টি, বোরোপিট ১৩৬১টি, মৌসুমি জলাশয় ১০৫৬৩৪টি, গলদা চিংড়ি ঘের ১২৬৫৩৯টি, বাগদা ঘের ১১২৪৫০টি এবং খাচায় মাছ চাষ ১৮৬টি। ধান ক্ষেতসহ বিভিন্ন উৎস থেকে মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর সুফল পেয়েছেন প্রান্তিক মৎস্য চাষিরা। প্রতিদিন দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল থেকে ১৪৫-১৬০মেট্রিক টন মাছ পদ্মাসেতু পার হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে। মাৎস্য খাতে সরাসরি জড়িত ১,৫৬,৮৭,৭৬৯ জন। মৎস্যজীবী রয়েছেন ১,৬৪,৮২৫জন। মৎস্য চাষি রয়েছেন ৩,৪৮,৪৩৯জন।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় উৎপাদিত মাছের মধ্যে সাদা মাছ ৬৫৩৫৪৭.৭মেট্রিকটন। চিংড়ি মাছ ১২২০৭৯.২২
মেট্রিকটন।গলদা ৫৫০৬৬.৮৭ মেট্রিকটন। বাগদা ৫৭৭২১.১০মেট্রিকটন। অন্যান্য চিংড়ি ৯২৯১.২৪মেট্রিকটন। কাকড়া ১০২২৬.২৪মেট্রিকটন। কুচিয়া ৭৯৩মেট্রিকটন এবং শুটকি উৎপাদন ৫৮৭৪ মেট্রিকটন। চাষিদের প্রশিক্ষণ, উন্নত প্রযুক্তিতে মাছ চাষ, দ্রুত বর্ধনশীল মাছ চাষ, অধিক উৎপাদনশীল মাছ চাষ, দেশীয় প্রযুক্তিতে চাষ, ডোবা খাচা, চৌবাচ্চা ও কার্পজাতীয় মাছের চাষের ফলে উৎপাদন বেশী হয়েছে। পদ্মা সেতুর বদৌলতে চাষিদের ভাগ্যের পরিবর্তন এসেছে। তারা অর্থনৈতিক ভাবে ঘুরে দাড়িছে।মাছ প্রাণীজ আমিষের অন্যতম উৎস। কর্মসংস্থান, বৈদেশীক মুদ্রা অর্জন এবং পুষ্ঠি সরবরাহ মাছ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। একই পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছের চাষ সকরা হচ্ছে। পরিকল্পিত উপায় স্বল্প পুজিতে অল্প সময় ও লাগসই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকৃতির উৎপাদনের চেয়ে অধিক মাছ চাষ করা হয়। পুকুরে এক সাথে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস, বিগহেড, সিলভারকার্প, কমনকার্পসহম বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা যায়। পুকুরে জাল টেনে মাছের ব্যায়াম করাতে হয়। খাদ্যোর সঠিক ব্যবহার করতে হয়। মাটি ও পানির উর্বরতা পানিতে প্রাকৃতিকভাবে খাদ্য তৈরী হয় মাছ তাই খেয়ে জীবন ধারণ করে। মৎস্য চাষিরা অমিষের চাহিদা পূরণ করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৎস্য চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও সরকারি প্রণোদনা পচ্ছেন না। খুলনা বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, মৎস্য চাষিদের ভাগ্য উন্নয়নে প্রতিনিয়ত মাঠ পর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। লবণপানি আমাদের সম্পদ। এই পানিতে চিংড়ি ও ভেটকি মাছ বেশী হয়ে থাকে। অধিক পরিমাণ মাছ উৎপাদনের জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। মাছ উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে।

