নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম দলীয় প্রতিপক্ষের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবি জেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম টিংকুর সেই সাথে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গে’ একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন । গত মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকালে সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নে কাগজিপাড়া এলাকায় নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতাল চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। এমন কি ওই দিন তার শরীরে কোন গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা জানান,‘দলের মধ্যে গ্রুপিং ও তাদের কিভাবে দল থেকে বহিস্কার করা যায়। এর কারণে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.মনিরুল ইসলাম এই নাটকটা করেছে।’ এদিকে বিএনপির মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতিসহ নেতৃবৃন্দের কাছে গত ১৭ আগস্ট গুলিবিদ্ধের ঘটনা বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে ‘তদন্ত পূর্বক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গ’ একটি লিখিত অভিযোগ দেন জেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম টিংকু।
লিখিত অভিযাগে জানা যায়, রিয়াজুল ইসলাম (টিংকু) বাংলাদশ জাতীয়তাবাদী দল নড়াইল জেলা কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক, নড়াইল সদর থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ২নং হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির ১নং সদস্য গত ১৩ আগস্ট কারণ দর্শানা নাটিশ ছাড়া তাকে বহিস্কার করা হইয়াছে। ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য পদ থেকে এর আগে গত ৫ আগস্ট দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৬ আগস্ট তার ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন আর রশিদ মারা যাওয়াই জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম তার কাছে আসে এবং তাকে বলে ভাই আমি জানাযার নামাজে যাবো। এর আগে তার সাথে অনেক আগে থেকে মনোমালিন্য ছিল যার প্রমাণ আগে লিখিত ভাবে দেওয়া আছে। তার ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি স্থগিত করা আছে। সে কারণে টিংকুকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.মনিরুল ইসলাম বলে ভাই চলেন জানাজার নামাজে যায় পরে আমরা মিলে মিশে দল করবো।
এর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কেদ্রীয় খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মোস্তফা কামাল মোস্তকে টিংকু ফোন করে বলেন যে হারুন সিকদার মারা গিয়াছে তোমার সাথে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল জানাজ আসবা না কি? অতপর জেলার সাধারণ সম্পাদক টিংকুর মটর সাইকলের পিছনে জোর পূর্বক ভাবে উঠে। প্রতিমধ্যে কাগজীপাড়ায় জানাজায় অংশ নিতে মোস্তফা কামাল টিংকুর গাড়ির সামনে এসে বলে টিংকু ভাই কোথায় যাব? এর মধ্যে হঠাৎ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম গাড়ী থেকে নেমে দৌড়ে চলে যাই। টিংকু ও তাহার পিছে পিছে দৌড়ায় এবং পার্শ্ববর্তী ওহিদুজ্জামানর বাড়ীতে উঠে পড়ে সেখানে স্থানীয় অনেক মানুষ ছিল কিন্তু কোন গোলাগুলি ও কোন উচ্চবাচ্য কোন কথা হই নাই। উক্ত ঘটনার তদন্ত পূর্বক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম টিংকু বলেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণ ওখানে একটি নাটক বানানো হয় । এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে গত ১৩ আগস্ট তারিখ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য পদ থেকে বহিস্কার করে এবং ৭ আগস্ট জাতীয়তাবাদী কৃষক দল খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মোস্তকেও বহিস্কার করে। আমাকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমাকে কুপিয়ে যখম করে আমি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছিলাম । দেশনত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে আপনারা সকলে মিলে চিকিৎসা করে আপনাদের মাঝে আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনাদের সাথে দলীয় কাজ করে যাবো এবং আমি দলীয় প্রায় সকল মামলার আসামী। আমি ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ধানের শীষে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেছিলাম। কিন্তু আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জোর পূর্বক ভোট কেটে আমাকে পরাজিত করে।
এ বিষয়ে কৃষকদলের খুলনা বিভাগীয় সদ্য বহিস্কৃত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মোস্ত বলেন, গত ৬ আগস্ট কাগজীপাড়া এলাকায় কোন গুলির ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বসবতি হয়ে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। কৃষকদলের কেদ্রীয় নেতাদের ভুল বুঝিয়ে আমাকে দলীয় পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক টিপু সুলতান টিংকুর অভিযাগের কপি হাত পাওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত করছন। এসব বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযাগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

