অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। যে স্বপ্ন নিয়ে আবু সাঈদ প্রাণ দিয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’ শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে কোটা আন্দোলন ঘিরে পুলিশের গুলিতে প্রথম শহিদ হওয়া আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকের এ কথা বলেন তিনি। ড. ইউনূস বলেন, ‘আবু সাঈদ এক পরিবারের সন্তান নয়, আবু সাঈদ এখন ঘরে ঘরে।
যে স্বপ্ন নিয়ে আবু সাঈদ প্রাণ দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদের। আবু সাঈদের বাংলাদেশে কোনো ভেদাভেদ নই।’ এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে কথা বলেন। তিনি তাদেরকে বলেন, ‘আবু সাঈদ এ দেশে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রেখে গেছে। আমরা আপনাদের পাশে আছি।’ ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা সবাই আবু সাঈদ। আবু সাঈদের মা সবার মা। এটা আবু সাঈদের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে কোনো ভেদাভেদ নেই।’ স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এখানে যারা আছে (আবু সাঈদের পরিবার) তাদের রক্ষা করতে হবে। তার মা আছে, বোনরা আছে, তাদের রক্ষা করতে হবে।’ কবর জিয়ারত ও আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা শেষে ড. ইউনূস বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। এরপর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত রোগীদের দেখতে যান। এর আগে গতকাল সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে পীরগঞ্জ যান ড. ইউনূস। এরপর বাবনপুরে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় ড. ইউনূসের আগমনকে ঘিরে পুরো পীরগঞ্জ উপজেলা সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলে। উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড়ে পুলিশ, ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। পরদিন ১৭ জুলাই পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।বার হৃদয়ে থাকবেন। বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগতাড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের ছবি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে। এটা কেউ ভুলতে পারবে না। অবিশ্বাস্য সাহসী যুবক বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়েছিল।’

