নিজস্ব প্রতিবেদক : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ ও নগদ অর্থ সাহায্যের প্রস্তাবে এবারের ঈদে ৩৬ লাখ পরিবারের জন্য দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় অর্থ সাহায্য পৌঁছে গেছে। যারা এই অর্থ বিতরণে সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে গতবারও অনেক অভিযোগ এসেছিল এবং অনেককেই শাস্তি পেতে হয়েছে এমনকি অনেক জনপ্রতিনিধিকেও কারাগারে যেতে হয়েছে। এবার এ ধরণের অপকর্ম এবং অর্থ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে তারা গণদুশমন হিসেবে চিহ্নিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘এবার যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং যারা সাহায্য পাওয়ার যোগ্য শুধু তারাই পাবে, মুখ চেনা লোকেরা নয় জানিয়ে কাদের বলেন, ‘গরীব মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে কোনো অনিয়ম করলে কঠোর শাস্তি অনিবার্য।’
সোমবার (৩ মে) ময়মনসিংহ সড়ক জোন, বিআরটিএ ও বিআরটিসিরর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা শহরগুলোতে গণপরিবহন চলাচল করলেও জেলার গাড়িগুলো জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কোনোভাবেই জেলার সীমানা অতিক্রম করতে পারবে না। সিটির ক্ষেত্রেও সিটি পরিবহন সিটির বাইরে যেতে পারবে না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জেলা পরিবহনগুলোকে প্রতি ট্রিপে গাড়ি জীবানুমুক্ত করাও বাধ্যতামূলক হতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না, পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো গাড়ী ঢাকা জেলার সীমারেখার বাইরে যেতে পারবে না।
পরিবহনগুলোকে অবশ্যই অর্ধেক আসন খালি রেখে নতুন সমন্বয়কৃত ভাড়ায় চলতে হবে।’
মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফেনা তুললেও বিএনপিই এদেশে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ধারক ও বাহক বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘বিপরীতে শেখ হাসিনা সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে গ্রহণ করেছে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি।’
বিএনপি নিজেদের শাসনামলে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল, তাদের আমলে তারা দুর্নীতিবান্ধব ও দুর্নীতি সহায়ক ছিল উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন তারা তাদের সেই ব্যর্থতা ও দুর্নীতি ঢাকতে সরকারের বিরুদ্ধে নানা সময়ে নানা কল্পিত অভিযোগ হাজির করে।’
করোনা কখন কমে আবার কখন বাড়ে তা বলা যায় না, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো কারণ নেই।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নিতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব ও শতভাগ মাস্ক পরিধান করতে হবে।’

