ঢাকাThursday , 18 March 2021
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মোদিকে প্রতিরোধের আহ্বান প্রগতিশীল ছাত্রজোটের

Link Copied!

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তারা।
একইসঙ্গে মোদির আগমনের প্রতিবাদে কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে বামজোটের নেতারা। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী- শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় রাজু ভাস্কর্যে মোদি বিরোধী সমাবেশ ও মিছিল এবং আগামী ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করবে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ।
তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত শাসকগোষ্ঠী জনগণকে বিচ্ছিন্ন রেখে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের ডাক দিচ্ছে। এমতবস্থায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগমনের প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিবেকবান মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ আরও বলেন, জনগণের প্রতিবাদ ঠেকাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলসমূহকে কর্মসূচি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে যারা কর্মসূচি পালন করবে, তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর হস্তে দমন করার হুশিয়ারি দিয়েছেন। আমরা প্রশাসনের এ কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।
মোদিকে সুবর্ণজয়ন্তীতে আমন্ত্রণ জানানো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই- মোদির আগমনের প্রতিবাদ জানানো ন্যায়সঙ্গত অধিকার। বরং ভারতের দাঙ্গাবাজ, সাম্প্রদায়িক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সুবর্ণজয়ন্তীতে আমন্ত্রণ জানানো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী। এই মোদির হাতে এখনও গুজরাটের হাজার হাজার মানুষের রক্তের দাগ লেগে আছে। মানবতাবিরোধী নাগরিকত্ব আইন করে আসাম ও পশ্চিম বাংলা থেকে কয়েক লাখ বাঙালিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার আয়োজন করেছে মোদি সরকার। প্রবলভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিচ্ছে। ভারতের জনগণের ন্যায়সঙ্গত সমন্ত আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করছে। কৃষক আন্দোলনে আমরা মোদি সরকারের ফ্যাসিস্ট রূপ দেখেছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের শাসকগোষ্ঠী কথায় কথায় ভারতকে বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করে। অথচ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রায়ই ভারতের বিএসএফ গুলি করে বাংলাদেশের জনগণকে হত্যা করছে। এসব হত্যার কোনো বিচার হচ্ছে না। তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ এখনও পায়নি। নদী, বন্দর, সুন্দরবন সব কিছুই ভারতীয় আগ্রাসনের শিকার। এমনকি ভারত বাংলাদেশের রাজনীতির অভ্যন্তরীণ ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করছে।
ফয়েজ উল্লাহ আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে গণমানুষের যে আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে দাঙ্গাবাজ ও সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতা মোদির অংশগ্রহণ ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা তা হতে দিতে পারি না। বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভারতীয় আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক মোদির আগমনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়ায় আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধেও আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি জাহিদ সুজন, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিক অনিক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি আল কাদেরী জয়, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিপুল চাকমা প্রমুখ।