হাসান রেজা : সারের গুণাগুন পরীক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে রংপুর, যশোর, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালে আধুনিক সরঞ্জামাদি সমৃদ্ধ নতুন আরো ৫টি ল্যাবরেটরি নির্মিত হচ্ছে। বর্তমানে এগুলোর নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউট (এসআরডিআই)’র ‘সার পরীক্ষাগার ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প’র আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের গবেষণা কেন্দ্রটি ৪০ শতক জমিতে, যশোরে ৩৫ শতক , চট্টগ্রামে ৭০ শতক এবং সিলেটে ১০০ শতক জমির উপর গবেষণা কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। বরিশালে ১০০ শতক জমির উপর পূর্বে নির্মিত এসআরডিআই’র একতলা ভবনের গবেষণাগারকে ইতোমধ্যে দ্বিতীয় তলায় উন্নীত করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য ভবনগুলোর নির্মাণ কার্যক্রম ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। রংপুর ও যশোরে ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। চট্টগ্রামে ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সিলেটে চলছে ভবনের পাইলিংয়ের কাজ।
এসআরডিআই’র নতুন এ ল্যাবরেটরিগুলোর ভবন নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) সহযোগিতা করেছে। চট্টগ্রামে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট হতে ৭০ শতক জমি ক্রয় করা হয়েছে। রংপুরে বিএডিসি’র আওতাধীন বীজ বর্ধন খামারের ৪০ শতক জমি বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে ল্যাবরেটরি ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে। যশোরে ল্যাবরেটরি ভবন নির্মাণে ৩৫ শতক জমি বিনামূল্যে পাওয়া গেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি)’র পক্ষ থেকে।
সার পরীক্ষাগার ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আবদুল বারী জানান, দ্রুতগতিতে প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত ২০১২-১৩ সালে প্রকল্পের অনুকূলে ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল এবং ৯৯.১২ শতাংশ হারে কার্যক্রমের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল এবং এই সময়ে ৯৯.৯৮ শতাংশ হারে প্রকল্পটির কার্যক্রমে অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে সার পরীক্ষা ও গবেষণায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয় প্রকল্পটির উদ্যোগে। এর মাধ্যমে ১১৫ জন কর্মকর্তাকে সার পরীক্ষা ও গবেষণায় দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রায় দেড় হাজার কৃষক, সার ডিলার ও সম্প্রসারণ কর্মীকে নকল ও ভেজাল সার সনাক্তকরণ এবং মৃত্তিকার নমুনা সংগ্রহ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া এসআরডিআই’র ল্যাবরেটরিগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ মালামাল ও রাসায়নিক দ্রব্য সরবরাহ করা হয়েছে প্রকল্পটির মাধ্যমে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে অনেক কৃষক অজ্ঞতার কারণে ফসলে ত্রুটিপূর্ণ মাত্রায় সার প্রয়োগ করে থাকেন। এ ছাড়া বাজারে অনেক নকল ও ভেজাল সারের উপস্থিতিও লক্ষ্যণীয়। নকল ও ভেজাল সার প্রয়োগে মৃত্তিকার উর্বরা শক্তি যেমন হ্রাস পায় তেমনি ফসলের গুণগতমানও কমে যায়। এই প্রেক্ষাপটে মৃত্তিকা ও সারের গুণগতমান পরীক্ষা এবং মৃত্তিকার ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সারা দেশে এসআরডিআই’র ১৬টি ল্যাবরেটরি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি স্থানভিত্তিক মৃত্তিকার নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্তিকার ধরণ বুঝে কৃষকদের সুষম সার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে। এসআরডিআই’র বিভিন্ন ল্যাবরেটরি থেকে কৃষকরা নামমাত্র মূল্যে ফসলি জমির গুণগতমান পরীক্ষা করাতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট মানের সার নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রয়োগ করে অধিক ফসল পেতে পারেন। এ ছাড়া এ সংস্থার ল্যাবরেটরি থেকে যে কোন সারের গুণগতমান পরীক্ষা করাতে পারেন কৃষক বা সার ডিলার অথবা কোন সন্দ্বিগ্ধ ব্যক্তি। এসআরডিআই সংশ্লিষ্টরা আরো জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার পরীক্ষা ও মৃত্তিকা গবেষণায় ল্যাবরেটরির সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন এই ল্যাবরেটরি ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। প্রকল্পের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত হলে মৃত্তিকা ও সার গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

