মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মরিচের জেলা বলে খ্যাত মানিকগঞ্জে উৎপাদিত মরিচের কদর দেশব্যাপী। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কয়েক বছর ধরে বিদেশেও রপ্তানি হয়ে আসছে এ জেলার মরিচ। তবে বন্যায় প্লাবিত হয়ে গাছ মরে যাওয়ায় মরিচের জেলার মানুষই মরিচ সংকটে পড়েছে। ৩০ টাকা কেজি দরের মরিচ এখন জেলাবাসী কিনছেন ২০০ টাকায়।
শিবালয় উপজেলার বরঙ্গাইল হাট মরিচ ও পেঁয়াজের জন্য বিখ্যাত। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় এ হাটে মৌসুমের সময় গড়ে একশ’ টন মরিচ বেচা-বিক্রি হতো। বন্যার কারণে এ হাটে গত কয়েকদিন ধরে মরিচ আনতে পারছেন না কৃষকরা।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গ্যানেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘‘জেলার শিবালয়, হরিরামপুর, ঘিওর ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ হয়। এখানকার অনেক কৃষকের প্রধান অর্থকরী ফসল মরিচ। চলতি বছরে জেলার সাতটি উপজেলায় মরিচের চাষ হয়েছে তিন হাজার ৯১১ হেক্টর জমিতে। এতে ফলন হয়েছে ছয় হাজার ৪৫৩ মেট্রিক টন।
‘মার্চ থেকে জুলাইয়ের শেষ এবং আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মরিচের মৌসুম। কিন্তু এ বছর জুলাই মাসেই বন্যার পানি ক্ষেতে ঢুকে মরিচ গাছ মরে গেছে। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”
শিবালয় ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও মরিচ চাষী রাইজুদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘এক বিঘা মরিচ চাষ করতে খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা। ভাল ফলন ও দাম পেলে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করা যায়। কিন্তু বন্যার কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’
মানিকগঞ্জের বরাঙ্গাইল মরিচ হাটের আড়ৎদার মজিদ বলেন, ‘মৌসুমের প্রথম দিকে হাটে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ ট্রাক মরিচ দেশের বিভিন্ন বাজারে গেছে। এখন মানিকগঞ্জে মরিচের চাহিদা মেটাতে বগুড়া, রংপুরসহ অন্যান্য জেলা থেকে মরিচ আনতে হচ্ছে।’
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার সবজি বিক্রেতা আলিম বলেন, ‘বর্তমানে আড়তে মানিকগঞ্জের মরিচ পাওয়া যাচ্ছে না। রংপুর ও বগুড়ার মরিচ আসছে। কয়েক দিনের আগের মরিচ আড়ৎ থেকে মান ভেদে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বিক্রি করছি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে।’
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক শাজাহান আলী বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা বন্যায় কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা শুরু করেছি। পরবর্তীতে মরিচ চাষীদের সহযোগীতা করা হবে।’

