মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা : গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে এবং উজান খেকে নেমে আসা ঢলে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন নদনদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এতে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এর ফলে জেলায় নতুন করে পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
জেলার হরিরামপুর, শিবালয় এবং দৌলতপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী চর এলাকার মানুষ বন্যার আশংকায় রয়েছেন। এসব এলাকার চলাচলের রাস্তা ঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিষয়টি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এস. এম. ফেরদৌস।
জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, দ্রুত পানি বাড়তে থাকায় বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পদ্মা, যমুনা, কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী, ইছামতী ও গাজীখালি নদীতে দ্রুত পানি বাড়ছে। এছাড়া, খাল বিল, ডোবা, জলাশয় ডুবে যাওয়ায় পানি বাড়ির উঠানে উঠে গেছে। এতে এসব এলাকার মানুষ বন্যার আশংকায় দিন পার করছেন।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) মো. ফারুক আহম্মেদ জানান, গত ৪ জুলাই আরিচা যমুনা পয়েন্টের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও পরে তা নিচে নেমে যায়। গত বুধবার (১৫) জুলাই আবারো দ্বিতীয় দফায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এ পয়েন্টে প্রতি ঘণ্টায় দুই থেকে তিন সেন্টিমিটার পানি বাড়ছে। ফলে তা দ্রুত তা অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে প্রবেশ করে চর এলাকা এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করছে।
জেলা প্রশাসক এস. এম. ফেরদৌস জানান, জেলার হরিরামপুর উপজেলার লেছরাগঞ্জ, সুতালরি, হারুকান্দি, কাঞ্চনপুর, বয়রা এবং আজিমনগর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া, দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের পাচুরিয়া, বাদুটিয়া, ভারাঙ্গা ও সুবুদ্ধির শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পুরাপাড়া, কাশি দয়ারামপুর, রামা নারায়ণপুর ও ব্রাম্মনদীর প্রায় দুই শতাধিক বসতভিটায় পানি উঠেছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, বন্যাপরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির খবর আদান প্রদানের জন্য উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খোলা হয়েছে।

