নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রেশনে সংশ্লিষ্ট অফিস কর্মচারিদের বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যে গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিনের ঘুষ বাণিজ্যের এ রেওয়াজ ক্রমশ যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘুষ বাণিজ্যে সিদ্ধহস্ত এসব কর্মচারিদের লাগাম কোনভাবেই টেনে ধরা যাচ্ছে না। কাগজপত্রে ত্রুটি বিচ্যুতি না থাকলেও ঐসব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারিরা খুটিয়ে খুটিয়ে ত্রুটি বিচ্যুতি বের করে দলিল সম্পাদনে বাধা সৃষ্টি করে কৌশলে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেন। রাজবাড়ী জেলায় ৪টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং ১টি ক্যাম্প অফিস রয়েছে। রাজবাড়ী সদর, পাংশা, বালিয়াকান্দি ও গোয়ালন্দ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ছাড়াও কালুখালীতে রয়েছে উক্ত ক্যাম্প অফিস। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব অফিসের সহকারীগণ (কেরানী) এতটাই ক্ষমতাধর যে, সংশ্লিষ্ট অফিসের সাব-রেজিস্ট্রাররাও তাদের কাছে কখনো কখনো অসহায়। রাজবাড়ী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানী অসীত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অভিযোগ রয়েছে। নানা টালবাহানায় দলিলদাতা এবং গ্রহীতা উভয়ের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা তিনি নিয়ে থাকেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি দলিল সম্পাদনের পর সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকের কাছ থেকেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন অফিস সহকারী অসীত কুমার বিশাস। এছাড়া নকল নবীশদের প্রশিক্ষণের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অধিকাংশ নকল নবীশদের অভিযোগ, তাদের কষ্টার্জিত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংকের কমিশন দিতে হয় কেরানী অসীত কুমার বিশ্বাসকে। এছাড়া বালাম বই সরবরাহ করার ক্ষেত্রেও কেরানীকে ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন নকল নবীশগণ। দলিলের নকল সরবরাহে সরকারি ফি ৪শ’ টাকা হলেও কখনো কখনো ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা আবার ক্ষেত্র বিশেষে তিন হাজার টাকা সুকৌশলে আদায় করেন অসীত কুমার বিশ্বাস।
গুরুদাস হালদার : জেলার পাংশা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানী) গুরুদাস হালদারের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। তিনি নকল নবীশদের প্রশিক্ষণের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। দলিলের নকল সরবরাহে সরকারি ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে এখানে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এর কোন প্রতিকারও পাচ্ছে না কেউ।
সুতপা রায় তপু : সুতপা রায় তপু রাজবাড়ী জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। তার স্বামী ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের প্রধান সহকারী। এ কারণে সুতপা রায় তপু নাকি অনেক ক্ষমতাধর। তিনি কাউকে আমলে নেন না। ঐ কেরানী সবাইকে বলে বেড়ান, তার ক্ষমতার হাত অনেক লম্বা। তাই তাকে কেউ কিছুই করতে পারবে না। জেলার প্রতিটি অফিস থেকে মোটা অংকের মাসোহারা তাকে দিতে হয় বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ী জেলা রেজিস্ট্রার গোলাম মাহবুব দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

