গাইবান্ধা সংবাদদাতা : উজান থেকে আসা ঢল ও কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গাইবান্ধার ১১টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ইতোমধ্যে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার অনেক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।
শনিবার (২৭ জুন) গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বেলা ৩টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ৫৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধি আগামী চারদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। ফলে গাইবান্ধা জেলার বন্যা সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ জানান, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর-বালাসীঘাটের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটি গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ফলে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথেই বাঁধ ভাঙা এলাকা দিয়ে পানি ঢুকে সাঁতারকান্দির চর ও ভাষারপাড়া এলাকা আকস্মিক বন্যায় নিমজিত হয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, ওই দুটি গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় দুই হাজার ৫০০ পরিবার এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া গাইবান্ধা বালাসীঘাট সড়কের বাঁধের পূর্ব অংশের সড়কটি পানিতে ডুবে গেছে।
এদিকে সাঘাটা, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জের নদী বেষ্টিত চরগুলোর নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার বসতবাড়ির লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সাথে ফসলের মাঠ পানিতে ডুবে যাওয়ায় পাট, পটল, কাঁচামরিচ ও শাক-সবজি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, পাহাড়ী ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামী চারদিন পানি আরও বাড়বে। পানির চাপের বাঁধের বিভিন্ন এলাকায় ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে তা জরুরীভাবে মেরামতের কাজ চলছে।

