সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : কাউকে এখন আর ধান নিয়ে ছুটতে হয় না মিল বাড়িতে। সিরাজগঞ্জের গ্রামে এখন কৃষকের বাড়িতেই ছুটে যায় ধান ভাঙানোর ভ্রাম্যমাণ চালকল।
সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে এই ভ্রাম্যমাণ চালকলের বিস্তার ঘটেছে। কৃষকের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ধান ভাঙানোর কাজ সহজ করে দেয়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ভ্রাম্যমাণ চালকল।
ধান ভাঙা আর পিঠা খাওয়ার জন্য চাল গুঁড়ো করতে ব্যবহৃত হতো ঢেঁকি। বর্তমানে পাঁচ গ্রাাম ঘুরেও একটি ঢেঁকির সন্ধান পাওয়া যাবে না। ঢেঁকি পাড় দেয়ার সে কষ্টও দূর করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ চালকল।
খবর দিলেই কৃষকের আঙিনায় ছুটে যায় শ্যালো মেশিনের সঙ্গে হলার স্থাপন করে তৈরি এই ধান ভাঙানোর এই মেশিন।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উল্লাপাড়া উপজেলার শিবপুর গ্রামে দেখা যায় ভ্রাম্যমাণ চালকলের সামনে ধান ভাঙানোর অপেক্ষায় বসে আছেন অনেক নারী-পুরুষ।
আলাপ হলো অপেক্ষারত কয়েকজন গৃহবধূর সাথে। তারা জানালেন, এখন আর ধান ভাঙানোর সমস্যা নেই। যেতে হয় না আর বাজারে। মোবাইল করলেই বাড়িতেই চলে আসে ভ্রাম্যমাণ ধান ভাঙানো মেশিন। ভ্রাম্যমাণ কলে ধান ভাঙালে তাদের খরচ, কষ্ট ও সময় খুব কম লাগে।
উপজেলার হৈমন্ত বাড়ি গ্রামের ধান ভাঙানো কলের মালিক আব্দুল জব্বার বলেন, তাঁতের কাজ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কষ্টে সংসার চলতো। কষ্টকে বিদায় করে একটু ভালো ভাবে চলা ও সন্তানকে পড়া শোনার খরচের জন্য নিজেকে পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেই। নিজের জমানো ১ লাখ ও মাসিক কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তৈরি করি ধান ভাঙানো মেশিন। এই মেশিনে ধান ভাঙিয়ে যে অর্থ পাই তা দিয়ে সংসার চলছে ও ছেলেকে লেখাপড়া করাতে পারছি। সেই সাথে চলে যাচ্ছে মেশিনের কাজে সহযোগী দুইজনের সংসারও।

