ঢাকাTuesday , 16 June 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনার প্রভাবে শিশু শ্রম বাড়ার আশঙ্কা

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসের কারণে ঝুঁকিতে শিশু, আশঙ্কা করা হচ্ছে এ মহামারির কারণে বিশ্ব জুড়ে শিশু শ্রম মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ সংকটে আরও লাখ লাখ শিশুকে শিশু শ্রমে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা গত ২০ বছরের অগ্রগতির পর প্রথম।
‘কোভিড-১৯ ও শিশু শ্রম: সংকটের সময়, পদক্ষেপের সময়’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত শিশু শ্রম ৯ কোটি ৪০ লাখ কমেছে, কিন্তু এই অর্জন এখন ঝুঁকির মুখে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে শিশুদের হয়তো আরও বেশি কর্মঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে বা তাদের আরও খারাপ পরিবেশে কাজ করতে হতে পারে। তাদের মধ্যে আরও বেশি শিশু হয়তো ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিযুক্ত হতে বাধ্য হবে, যা তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকির কারণ হবে।
আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, ‘মহামারি পারিবারিক আয়ে বিপর্যয় নিয়ে আসায় কোনও সহায়তা না পেয়ে অনেকেই শিশু শ্রমে নিয়োজিত হতে বাধ্য হবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর ফলে দারিদ্র্য বেড়ে গিয়ে শিশু শ্রম বাড়াবে। কারণ বেঁচে থাকার জন্য পরিবারগুলো সম্ভাব্য সব উপায়ে উপার্জনের চেষ্টা করবে। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘সংকটের সময় অনেক পরিবারই টিকে থাকার কৌশল হিসেবে শিশু শ্রমকে বেছে নেয়। মানসম্পন্ন শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা সেবাসহ আরও ভালো অর্থনৈতিক সুযোগ ইতিবাচক এই পরিবর্তনের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।’
বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পৌটি আইনেন বলেন, ‘বর্তমান সংকটের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু শ্রম হ্রাসে দারুণ কাজ করে আসছিল। চলমান মহামারির কারণে এই অর্জন যেন ভেস্তে না যায় তা নিশ্চিত করতে অন্য যে কোনও সময়ের তুলনায় আরও বেশি সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোযুমি বলেন, ‘সবচেয়ে অসহায় শিশুদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যতের উপর কোভিড-১৯ মহামারি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্কুল বন্ধ ও পরিবারের আয় কমে যাওয়ায় অনেক শিশুর জন্য শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’
মহামারির এই সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশু শ্রম বাড়ার প্রমাণ ধারাবাহিকভাবে আসছে। বিশ্বের ১৩০টির বেশি দেশে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ১০০ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এমনকি যখন আবার ক্লাস শুরু হবে তখন অনেক বাবা-মায়ের হয়তো তাদের সন্তানকে স্কুলে দেওয়ার সক্ষমতা হারাবেন। ফলে আরও অনেক শিশু বঞ্চনামূলক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যোগ দিতে বাধ্য হবে।
প্রতিবেদনে শিশু শ্রম বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অধিকতর সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা, দরিদ্র পরিবারের জন্য সহজে ঋণ পাওয়ার সুযোগ, বড়দের মানসম্মত কাজের সুযোগ বৃদ্ধি, স্কুলের বেতন বাতিলসহ শিশুদের স্কুলে ফেরা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, শ্রম পরিদর্শন ও আইন প্রয়োগে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও রয়েছে।