ঢাকাSunday , 7 September 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিলেট ছাত্রলীগের দুগ্রুপের ‘রণপ্রস্তুতি’

Link Copied!

রোববার কর্মিসভা

সিলেট সিলেট ছাত্রলীগের দুগ্রুপের ‘রণপ্রস্তুতি’ সিলেট ছাত্রলীগের দুগ্রুপের ‘রণপ্রস্তুতি’     e1410061455397সিলেট প্রতিনিধি :

সিলেটে জেলা ছাত্রলীগের অবস্থা এখন ‘ঘরের শত্র বিভীষণ’র মতোই। বর্তমানে সিলেট ছাত্রলীগ নিজেরাই নিজেদের শত্রু। বিবদমান গ্রুপগুলো আধিপত্য নিয়ে নিজেদের মধ্যেই বারবার সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। সংঘাত-সহিংসতা চরম পর্যায়ে পৌঁছার কারণে নেতাদেরকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। এ অবস্থায় রোববার সকালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমটি গঠনের লক্ষ্যে এক কর্মিসভার আয়োজন করা হয়েছে। ওই সভায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু ওই সভা ঘিরে অতীতের মতো বিবদমান গ্রুপগুলো ‘রণপ্রস্তুতি’ নিয়ে রেখেছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। পুলিশ কর্মিসভার আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করবে।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে রোববার সিলেট সফরে  আসছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এএইচ বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। তারা নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

ছাত্রলীগের একটি পক্ষ চাইছে বাতিলকৃত কমিটিই পুনর্বহাল হোক। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ চাইছে নতুন কমিটি। তবে শেষ পর্যন্ত কি হয়, সেটা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সিপিবি-বাসদ’র সমাবেশে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। হামলায় সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা আহত হন। ওই হামলার ঘটনায় ওইদিন রাতেই সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপর থেকে কমিটিবিহীন অবস্থায় চলছে জেলা ছাত্রলীগ। এ অবস্থায় ক্ষোভ আর হতাশা থেকে এখন তারা নিজেরাই নিজেদের শতে পরিণত হয়েছে। আর এসবের নেপথ্যে রয়েছে তাদের চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এছাড়াও রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার। টিলাগড় গ্রুপের কাছে ব্যাপক অবৈধ অস্ত্রের মজুদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষ বাধলেই দেখা যায় ছাত্রলীগের অস্ত্রের ঝনঝনানি।

গত ২৮ এপ্রিল এমসি কলেজে স্নাতক শ্রেণীর ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নিতে গেলে ছাত্রলীগ কর্মী বাংলা বিভাগের অনার্স ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছদরুল ইসলাম ও তার সহপাঠী পদার্থবিদ্যা বিভাগের ছাত্র নিরেশ তালুকদারকে পিটিয়ে আহত করে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপু গ্রুপের কর্মীরা।

গত ৮ জুন এমসি কলেজ ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিছিল ও মানববন্ধন কর ছাত্রলীগেরই আরেক অংশ। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি পঙ্কজ গ্রুপের নেতাকর্মীরা জেলার সাবেক সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু গ্রুপের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ করে ওই মানববন্ধনে। ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে ক্যাম্পাস থেকে নিপু গ্রুপের অস্ত্রধারী ক্যাডারদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায় ছাত্রলীগের পঙ্কজ গ্রুপ।

গত ১০ জুন সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয় এমসি কলেজ ছাত্রলীগ। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘প্রাচীতম বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজ ছাত্রলীগ আজ বিপন্নের পথে। কলেজ ছাত্রলীগ আজ গুটিকয়েক ছাত্রনামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি। ক্যাম্পাসে এখন তারা প্রতিনিয়তই অস্ত্রের মহড়া দেয়। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না। সে কারণে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কাছে এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, ‘ছাত্রলীগ নামধারী এসব সন্ত্রাসীর ভয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা কলেজে আসতে চায় না। ছাত্রলীগ এখন এক আতঙ্কের নাম।’

এ অবস্থায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের বিভেদ দূর করে দলকে সক্রিয় করতে এবং নেতাকর্মীদেরকে চাঙ্গা করে তুলতে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ। সে লক্ষ্যে জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মতামত জানতে রোববার কর্মিসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এই কর্মিসভার মতামতের প্রেক্ষিতেই খুব শিগগরিই জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হবে ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে কমিটিকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রলীগে দু’টি পক্ষের উদ্ভব হয়েছে। এক পক্ষ চাইছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের বাতিলকৃত কমিটিই পুনর্বহাল হোক। এই পক্ষে আছেন স্বয়ং বাতিলকৃত ওই কমিটির সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপুসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী। তাদের ভাষ্য, যে অনাকাঙ্খিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করা হয়েছে, তার দায়ভার গুটিকয়েক উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীর। এই গুটিকয়েকের দায়ভার পুরো কমিটি কেন নেবে? এই পক্ষ চাইছে, অন্তত তিন মাসের জন্য জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্বহাল করা হোক। এই সময়ের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে চান তারা।

বাতিলকৃত ওই কমিটির সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপু বাংলমেইলকে বলেন,‘জেলা ছাত্রলীগ, এমনকি আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই বাতিলকৃত কমিটি পুনর্বহালের পক্ষে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও চাই ওই কমিটি পুনর্বহাল করা হোক। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা থাকবে।’

রোববার কর্মিসভাকে ঘিরে অতীতের মতো কোনো ধরনের সংঘাত হতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা কম। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে অতি-উৎসাহী নেতাকর্মীরা নিজ নিজ গ্রুপের পক্ষে স্লোগান দেয়া শুরু করে। এ থেকে অনেক সময় সংঘাত বাধে। তবে আজ এমন কিছু ঘটবে না বলে আশা করছি।’

অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি চাইছে আরেকটি পক্ষ। এ পক্ষের বক্তব্য হচ্ছে, একটা ‘কলংক’ নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করা হয়েছে। তাই সে কমিটি পুনর্বহাল করা হলে ছাত্রলীগের জন্য ব্যাপারটা কটু দেখাবে। তাছাড়া বাতিলকৃত কমিটি যদি এখনো বহাল থাকতো, তবে ইতিমধ্যেই সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যেতো, সুতরাং সেই কমিটি পুনর্বহালের কোনো যুক্তি দেখছে না এই পক্ষ। এ পক্ষের বক্তব্য, ‘পুরনো আদু ভাই যুগে ফিরে যেতে চাই না।’ হিরন মাহমুদ নিপু গ্রুপের বিপক্ষ জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থর নিয়ন্ত্রণাধীন ‘পংকজ গ্রুপ’র নেতা সিলেট ল’ কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক রশিদুল ইসলাম রাশেদও আছেন এই পক্ষে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সিলেট জেলা ছাত্রলীগে নতুন নেতৃত্ব আসুক। তরুণ নেতৃত্ব আসুক। এতে তরুণরা আরো অগ্রগামী হয়ে দলের জন্য কাজ করবে।’

আজকের কর্মিসভায় সংঘাতের আশঙ্কা ‘তেমন একটা নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুরনো আদু ভাই যুগ আর নেই।’

ছাত্রলীগের নেতারা সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রোববার কর্মিসভাকে ঘিরে সংঘর্ষ বাধতে পারে। এ জন্য জেলা ছাত্রলীগের বিবদমান সব গ্রুপই নিজেদের রণপ্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।

এ ব্যাপারে সিলেট কতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকার ভেতরে গোলমাল হলে তা দেখার দায়িত্ব আমাদের। গোলমাল ঠেকাতে কর্মিসভার আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।’