ঢাকাMonday , 6 January 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এমপিদের নির্বাচনী প্রচারে আইন চায় ১৪ দল

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে আইনে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা সংশোধন করার দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।
সোমবার রাজধানীর সেগুনবা‌গিচায় ঢাকা রি‌পোর্টার্স ইউনিটির ‘নসরুল হামিদ’ মিলনায়ত‌নে বাংলা‌দেশের ওয়ার্কার্স পা‌র্টি আ‌য়ো‌জিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখ‌তে গি‌য়ে তি‌নি এ কথা ব‌লেন।
ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পা‌র্টির নব‌নির্বা‌চিত নেতৃবৃ‌ন্দের স‌ঙ্গে ১৪ দ‌লের মহানগর নেতৃবৃ‌ন্দের শু‌ভেচ্ছা বি‌নিময় অনুষ্ঠা‌নে প্রধান অতিথি হি‌সে‌বে উপ‌স্থিত ছি‌লেন মোহাম্মদ না‌সিম।
তিনি বলেন, ‘দুনিয়ার কোন জায়গায় আছে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন পরিচালনায় থাকতে পারবে না। ভারতের নির্বাচনে মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত নির্বাচনের ক্যাম্পেইন করেছে প্রার্থীর পক্ষে। আর আমি, মেনন সাহেব (রাশেদ খান মেনন), এখন ঘরের মধ্যে বলে যাচ্ছি…বাইরে গিয়ে বলতে পারবো না। নৌকার পক্ষে কথা বলতে পারবো না। আইন করে দেয়া হয়েছে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের ক্যাম্পেইন করতে পারবো না। কোনো আইনে আছে বলুন তো?’
‘দুনিয়ার একটা দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবেন না যে, আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি..আমি কেন আরেকজনের জন্য প্রচার করতে পারবো না। এটা আইন হয়েছে। তাহলে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড থেকে আমি তো বঞ্চিত হচ্ছি। আমি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার, মেনন সাহেব এক দলের প্রধান..অথচ প্রচার করতে পারবেন না। মুওদদ সাহেব (বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ) প্রচার করবে, মির্জা ফখরুল (বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) প্রচার করবে। মোশাররফ সাহেব (বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন) প্রচার করবে। আমু ভাই, (আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু) তোফায়েল ভাই (আওয়ামী লীঘ নেতা তোফায়েল আহমেদ), আমরা কেউ প্রচার করতে পারবো না। এখানে ঘরের মধ্যে কথা বলছি। বাইর গিয়ে কথা বলতে গেলে আইন লঙ্ঘন হবে। কোথায় লেবেলে প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হলো?’
জনপ্রতিনিধিদের প্রচারণায় অংশ নেয়ার এই বাধা দূর করতে আইন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘দুনিয়ার কোথাও যেখানে নাই সেখানে আমাদের দেশে কেন এই আইন থাকবে? আইন সংশোধন করে সমস্ত জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচনে প্রচার করার সুযোগ দিতে হবে। মন্ত্রীরা পারবে না সমস্যা নাই মন্ত্রীদের দরকার নাই। মন্ত্রী সাহেবরা বাইরে থাকুক।’
‘কিন্তু যিনি একজন এমপি, দলের নেতা, তিনি কেন প্রচার করতে পারবেন না?এটা হতে পারে না। এই ধরনের আইন কখনো সমান-সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে না। এই ধরনের অসম আইন আমাদের জন্য লজ্জাজনক। ১৪ দল থেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আইন সংশোধন করে আমাদের আইনগত প্রচার করা সুযোগ দিতে হবে। ‘
নির্বাচনের আগেই বিএনপির কারচুপির অভিযোগে কঠোর সমালোচনা করে ১৪ দলীয় জোটের এই নেতা বলেন, ‘ইভিএম (ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিন) তো অনেক জায়গায় হয়েছে। কোথায়ও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নির্বাচন হওয়ার আগেই কথা বলা শুরু করলেন কারচুপি, কারচুপি। নির্বাচন শুরুই হলো না কারচুপি শুরু হয়ে গেলো। আমি বিএনপির দু’জন মেয়র প্রার্থীর প্রশংসা করবো তারা তো এটা বলছে না। তারা বলেছেন মাঠ ছেড়ে আমরা যাবো না। মাঠ ছেড়ে আপনারা যাবেন না ভালো কথা, কিন্তু আপনাদের বড় বড় নেতাদের কথা শুনবেন না। তারা হচ্ছে পালানোর ওস্তাদ। জাতীয় নির্বাচন তো দেখেছি। নিজেরা নির্বাচন করেন। জনগণের কাছে যান বলেন যে রায় দিবে তারা মেনে নেবেন।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে আমরা মেনে নেবো। এই পরাজয় বা জয় যা হোক লাভবান আমরা তেমন হবো না। আমরা সরকারের আছি। জয়-পরাজয়ে আমাদের কিছু যায় আসে না। জয় হলে আমরা বেশি ক্ষমতাবান হবো না, আবার পরাজয় হলেও কিছু হারাবো না। জনগণই আমাদের বড় শক্তি।’
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ১৪ দলের এই মুখপাত্র বলেন, ‘চক্রান্ত হচ্ছে। কারণ বিএনপি সব সময় পেছনের দরজা দিয়ে চক্রান্ত করে বার বার ক্ষমতায় এসেছে। তারা জনগণের মন জয় করতে পারে না। জনগণকে তারা ভয় পায়। নির্বাচন কমিশনকে বলবো কোমড় শক্ত করে কথা বলেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করুন। প্রধানমন্ত্রী চায়, ১৪ দল চায়, কোনো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন যেন না হয়। আপনারা সঠিক ও কঠোরভাবে নির্বাচন পরিচালনা করুন। উৎসবের নগরী হয় যেন ঢাকা শহর।’
জোটগতভাবে নির্বাচনী মাঠে মেনে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান মোহাম্মদ নাসিম।
এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে শেখ ফজলে নুর তাপসকে সজ্জন প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু সরকারে আছি এবং তাপস হচ্ছে এমন একজন সজ্জন প্রার্থী, ভদ্রলোক, তার পিতার আত্মত্যাগ মানুষের মনে আছে। তার সন্তান তাপস। একজন মেয়র হিসেবে খুব দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে পারবে সে, যা অন্য কেউ পারবে না। তাপসের যে সুযোগ আছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্টজন হিসেবে জননত্রেী শেখ হাসিনাকে সে বলতে পারবে যে, আমাকে এই কাজটি করতে হবে, অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলেল সভাপতি কমরেড দিলীফ বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মোহাম্মদ মান্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।