নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, অনেক ভালোবাসা দিয়ে সাক্ষাৎকারভিত্তিক ‘তীব্র নিল নিঃশেষে লাল-শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের রাজনীতিতে যারা শুদ্ধাচারে অন্যান্য ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার। একজন মানুষ ছোট্ট এক জীবনে কত কিছু করতে পারে তা এই বইয়ের মাধ্যমে উঠে এসেছে।
‘তীব্র নিল নিঃশেষে লাল-শহীদ আহসানউল্লাহ্ মাস্টার’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এই অনুষ্ঠনের আয়োজন করা হয়।
দীপু মনি বলেন, আহসান উল্লাহ মাস্টার যখন যে কাজ ধরেছেন তা সততার সাথে করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন, মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। ২৫ বছর পর গাজীপুরের সংসদীয় আসনটি তিনি আওয়ামী লীগের জন্য উদ্ধার করে বিএনপির ঘাটিকে নৌকার ঘাটিতে পরিণত করেছেন। এর নেপথ্যের কারণ-মানুষের প্রতি তার ভালবাসা, সততা আর দেশপ্রেম।
‘চা বাগানের শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় তিনি কাজ করেছেন। গাজীপুরে ৯টি কারখানা শ্রমিকদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করেছেন। মানুষের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সন্ত্রাস, মাদকসহ সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সংগ্রাম করেছেন।’
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার পর লোভনীয় অনেক চাকরির সুযোগ ছেড়ে তিনি শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। মৃত্যর আগ পর্যন্ত তিনি অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।’
অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আহসান উল্লাহ মাস্টার একেবারে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসেছেন। তিনি যে কত জনপ্রিয় ছিলেন তা বোঝা গেল তাকে হত্যার পর। দলমত নির্বিশেষে এই হত্যার বিচার দাবিতে সেদিন মাঠে নেমেছিলেন।
বইটির সহ-সম্পাদক ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার নিজেকে আত্মত্যাগ করেছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বইটির সম্পাদক অধ্যাপক রশীদুল হাসান। তিনি বলেন, ২০০২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেয়ার আগে আমি আহসান উল্লাহ মাস্টারের কাছে গিয়েছিলাম নিজের জন্য সুপারিশ নেয়ার জন্য। তিনি সব শুনে আমাকে বললেন, শিক্ষকদের জন্যও যদি সুপারিশ করা লাগে তাহলে কীভাবে এই দেশের উন্নতি হবে? এই হলো আমাদের আহসান উল্লাহ মাস্টার। তার সততার এমন বহু উদাহরণ রয়েছে।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আখতারুজ্জামান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আতাউল্লাহ মণ্ডল, সাবেক সংসদ সদস্য ও গাজীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী মোজাম্মেল হক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।


