নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে প্রোডাক্ট হিসেবে ব্যবহার করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিজয় দিবসের র্যালি উদ্বোধনের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে প্রকৃত রাজাকারদের বাদ দিয়ে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজাকারদের তালিকা তৈরি করেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আজকে এই র্যালির নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার, যিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী। যিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি ছিলেন। কিন্তু আজকের দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে দেশনেত্রীকে ছাড়াই আমাদের এই র্যালিতে অংশ নিতে হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই সরকার অন্যায়ভাবে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে জোর করে জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় বসে আছে। আজকে আমরা দেখতে পাই, আমাদের যে ভাই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, সেই ভাই গুম হয়ে যাচ্ছে। চার-পাঁচ বছর পার হয়ে যায়, আমাদের সেই ভাইয়ের সন্তানেরা তাদের পিতার খোঁজ পায় না।
বিএনপির মহাসচিব দলীয় নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে মুক্ত করে আনব, ইনশাল্লাহ। আপনারা সকল বিভেদ ভুলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য একটি ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলুন এবং এই সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করুন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান প্রমুখ।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে মূল চেতনা ছিল, আজকে দুঃখের সহিত বলতে হয়, সেই মূল চেতনা, গণতন্ত্র বাংলাদেশে ভূলুণ্ঠিত।
তিনি বলেন, এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরাতে না পারলে আমরা দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে পারব না। দেশের গণতন্ত্র মুক্তি হবে না। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ৪৭ বছর আগে আমরা যে বিজয় অর্জন করেছিলাম, আজকে আমাদের সেই বিজয়ের আনন্দ ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকে কারাগারে। আমরা আন্দোলন বা আইনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে পারিনি, এটি আমাদের ব্যর্থতা। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্ত না হলেও আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে সকল ব্যারিকেড ভেঙে, জেলের তালা ভেঙে মুক্ত করবই, ইনশাআল্লাহ।
বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। আসুন, আমরা আজ মরি-বাঁচি, শপথ নিই, রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করব।


