ঢাকাWednesday , 27 November 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিএডিসি’র সেচ পাম্প পরিচালনা কার্যক্রমের উদ্বোধন

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সেচ কার্যক্রমে ডিজিটাল পদ্ধতির প্রবর্তন করেছে। এর অংশ হিসেবে গত ২৪ নভেম্বর মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে পাম্প চালু-বন্ধের আধুনিক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন সংস্থার চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. সায়েদুল ইসলাম। বিএডিসি’র আওতাধীন রংপুর অঞ্চলে ভূউপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে এই মোবাইল অ্যাপটি প্রবর্তিত হয়েছে।
চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম এদিন প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সংস্কারকৃত স্বয়ংসম্পূর্ণ গভীর নলকূপ এবং মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড. শেখ হারুনুর রশিদ আহমদ, অতিরিক্ত সচিব ও সদস্য পরিচালক (বীজ ও উদ্যান), মো. লুৎফর রহমান. প্রধান প্রকৌশলী (সংরক্ষণ ও কারখানা) এবং প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সঞ্চয় সরকার সহ বিএডিসি’র প্রধান কার্যালয় থেকে আগত আমন্ত্রিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ। এরপর চেয়ারম্যান প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে খননকৃত (৫ কি. মি.) খালটি পরিদর্শন করেন এবং উপকারভোগী প্রায় ২০০ কৃষকের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে সন্তোষ প্রকোশ করেন এবং কৃষি ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে উপস্থিত উপকারভোগী কৃষকদের অবহিত করেন।  
উল্লেখ্য, বিএডিসি বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য দেশব্যাপী ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে। ‘রংপুর অঞ্চলে ভূউপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে রংপুর বিভাগের রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলার ২৮টি উপজেলায়। নীলফামরাী সদর উপজেলার গভীর নলকূপটি ১৯৭৫ সালে স্থাপন করা হয়েছিল এবং ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের মাধ্যমে সেচকার্যে কৃষকের ব্যয় বৃদ্ধি পেত এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সেচের ব্যবস্থা করা সম্ভব না হওয়ায় এই গণকূপটি ব্যবহারে কৃষকের অনীহা দেখা দেয় এবং পরবর্তিতে বেশ কয়েক বছর গণকূপটি বন্ধ ছিল। তাই এই প্রকল্পের আওতায় গণকূটিতে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয় এবং ১০০০ মিটার ভূগর্ভস্থ সেচ নালা নির্মাণ সহ পাম্প হাউজ নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও এখানে লাইটিং এরিস্টেটর স্থাপন করা হয়েছে যাতে করে বজ্রপাতে সেচযস্ত্রের ক্ষতি না হয়। ফিতা পাইপ বহনের জন্য একটি ফিতা পাইপ হোল্ডার স্কিমে প্রদান করা হয়েছে যাতে করে কমান্ড এরিয়া ৪০ হেক্টর এর চেয়েও অধিক পরিমাণ ফসলি জমিতে সেচ প্রদান করা সম্ভব হবে। এতে ফসল উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় অনেক কমে যাবে এবং অধিক জমিতে সেচ প্রদান করা যাবে।
খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক মো. আলী আকবর জানান, আগে তাদের ফসলের ক্ষেতে সেচ দিতে অনেক টাকা খরচ হতো, কিন্তু বিএডিসি’র এই সেচ কার্যক্রমের ফলে তাদের ফসল উৎপাদন বাড়বে এবং খরচও কমবে। বিএডিসি সূত্র জানায়, পূর্বে ডিজেল চালিত সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে সেচ প্রদান করার ফলে একর প্রতি প্রায় ১১,০০০ টাকা খরচ হতো; কিন্তু বর্তমানে বৈদ্যুতিক লাইন নির্র্মাণ ও ১,০০০ মি. ভূগর্ভস্থ সেচ নালা নির্মাণের মাধ্যমে উপকারভোগী কৃষকদের খরচ কমে ৩,০০০-৪,০০০ হাজার টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। এতে একদিকে যেমন ফসল উৎপাদন খরচ অনেক কমে যাবে, অন্যদিকে এই এলাকার সেচ দক্ষতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্কারকৃত গণকূপটির কমান্ড এরিয়ার মধ্যে ১৫টি অগভীর নলকূপ চলতো কিন্তু এই গণকূটি চালু হওয়ায় অগভীর নলকূপগুলো বন্ধ থাকবে। সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের উত্তরাশশী মৌজার কৃষক এমদাদুল সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিএডিসি’র সেচের ফলে তাদের অনেক উপকার হবে, এলাকায় আগামী দিনে ফসল উৎপাদন বাড়বে।
তথ্যমতে, সিংগীমারী খালটি মাজাপাড়ার সিংগীমারী বিল থেকে উৎপত্তি হয়ে ঢাকাইয়া পাড়া, টেপুর ডাঙ্গা, চকপাড়া, পাটকামড়ীর মধ্য দিয়ে হাড়ুয়া স্লুইস গেটের কাছে খরখরিয়া নদীতে পতিত হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে সিংগীমারী বিলের আশে পাশের ২৪০ হেক্টর জমিতে আমন ফসল উৎপাদন হতো না, এমনকি সঠিক সময়ে বোরো রোপন ব্যাহত হতো। রংপুর অঞ্চলে ভূউপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫কি. মি. খাল খননের ফলে জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে। ফলে কৃষকরা এবার অতিরিক্ত ১,১০০ মেট্রিক টন আমন ধান উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে এবং সঠিক সময়ে বোরো ধান রোপন করতে পারবে। খালের মধ্যে পানি ধরে রেখে সেচ মৌসুমে সোলার পাম্প ও বিদ্যুৎ চালিত এল.এল.পি এর মাধ্যমে কৃষকের জমিতে সেচ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। খালের দুই পাড়ের ভাঙ্গন রোধে এবং বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য ৫,০০০টি তাল বীজ রোপন করা হয়েছে।