নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা নেতৃত্বে আসছেন এমন আলোচনাই নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে।
মঙ্গলবার দুপুরে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে কাউন্সিলকে ঘিরে কিছু ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন দলের ত্যাগী নেতৃত্বকে মূল্যায়ন না করে হাইব্রিট ও একাধিকবার দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা বিতর্কিতের পুনরায় নির্বাচিত করা হতে পারে।
তবে কাউন্সিলে সভাপতি পদে এক জনের নাম আলোচনায় থাকলেও সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন নেতার নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।
এরা হলেন- সভাপতি প্রার্থী বন্দর উপজেলার বর্তমান সভাপতি এম এ রসিদ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তেমন কোন শক্ত প্রার্থী না থাকায় ঘুরে ফিরে এম এ রশিদের নামই সভাপতি পদে আলোচনায় আছে।
এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে নামে তালিকায় আছেন মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী এম এ সালাম, ধামঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি কাজিম উদ্দিন প্রধান। আর বন্দর উপজেলায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তদের পছন্দের প্রার্থীদের মনোনীত করবেন দলের ২৩৭ জন কাউন্সিলর। বন্দর উপজেলা এলাকা নারায়ণগঞ্জ-৫ বন্দর আসনে আওতাভুক্ত।
তাই দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জে আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ উপজেলায় যেমন ওই আসনে সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছন। এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একজন জাতীয় পার্টি নেতা হওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই বর্তমান সভাপতি এম এ রশিদের সভাপতি প্রার্থী হতে সহায়ক হবে।
শেষ পর্যন্ত হয়তো তাকেই আবার সভাপতি করা হতে পারে। যদি তাই হয় তাহলে অন্যান্য ত্যাগী নেতাকর্মীরা কি পাবেন? তিনি সভাপতি হওয়ার কারণেই উপজেলা চেয়ারম্যান হলেন আবার নতুন করে তাকেই যদি সভাপতি করা হয় তাহলে সম্মেলনের কি দরকার ছিল এমনটাই দাবি ত্যাগীদের।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মহানগর শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি কাজিম উদ্দিন প্রধান বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। কলাগাছিয়া ইউনিয়নবাসীর ত্যাগ যদি থেকে থাকে ইনশাল্লাহ ২৬ নভেম্বর আমি সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হবো আশা করছি।
তিনি বলেন, বন্দর উপজেলার মধ্যে এক সময় কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ফরাজীকান্দার নেতারা নেতৃত্ব দিতেন। আর এখন আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি। এর ধারাবাহিকতা আমাদের পুনরুদ্ধার করতে হবে।
অপরদিকে এ পদের অপর প্রার্থী ধামঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ বলেন, সকল কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হলে আমি বিপুল ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবো আশা করি।
এদিকে সাধারণ সম্পাদক অপর প্রার্থী মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী এম এ সালাম জানিয়েছেন, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীর সমর্থন পেয়েছি। আশা করি তারা আমাকেই নির্বাচিত করবেন।
কাউন্সিল প্রসঙ্গে সভাপতি প্রার্থী বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ রশীদ বলেন, সকল প্রার্থীদের মূল্যায়ন করেই সকল কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমেই নতুন কমিটি গঠন করা হবে। তবে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী একাধিক থাকলেও সভাপতি পদ প্রার্থী আমি ছাড়া এখনো কেউ নেই।
এদিকে বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির এলিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করে গেছি। সবসময় দলের জন্য নিবেদিত ছিলাম। দল থেকে কি পেলাম সেটা কখনো বুঝতে চাই নাই। অথচ এখন দলের সুসময়। আমাদের মাইনাস করে এক সুবিধাবাদী মহল নিজের পাল্লা ভারী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। দলীয় হাইকমান্ড এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে সামনে কঠিন পরিস্থিতির দোড়গোরায় পৌঁছতে হবে।


