নিজস্ব প্রতিবেদক : সৌদি আরবে নারী গৃহশ্রমিক নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা বন্ধ ও প্রবাসী নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছেন প্রগতিশীল নারী সংগঠনসমূহ।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাবেশ ও মিছিল করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
সিপিবি নারী সেলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক লক্ষ্মী চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি বহ্নিশিখা জামালী, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, নারী সংহতির কেন্দ্রীয় নেত্রী সুলেখা রহমান, বিপ্লবী নারী ফোরামের আহ্বায়ক আমেনা আক্তার, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেত্রী নীতি চাকমা।
সমাবেশে লক্ষ্মী চক্রবর্তী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে নারী গৃহশ্রমিকদের দুঃসহ জীবন ও লাশ হয়ে দেশে ফেরার ঘটনা দেশবাসীকে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। এবছর প্রথম আট মাসে ৮৫০জন নারী সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। এর মধ্যে আগস্ট মাসের একদিনেই ১০৯ জন ফিরেছেন। এরা প্রায় প্রত্যেকেই শারীরিক, মানসিক ও যৌন নিপীড়নের শিকার।’
বক্তরা বলেন, ‘নির্যাতনের অভিযোগে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন সৌদিতে গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিলে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে সৌদি আরব। এরপর থেকে গত জুলাই মাস পর্যন্ত ৩ লাখ নারী কর্মী গেছেন সৌদি আরবে। দুই বছরের চুক্তিতে যাওয়া নারী গৃহকর্মীরা মাসে বেতন পান বাংলাদেশী টাকায় মাত্র ১৭ হাজার টাকা। চুক্তি অনুযায়ী গৃহকর্মীদের বিনা খরচে সৌদি আরব যাওয়ার কথা; কিন্তু দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা লাগে। ওখানে গিয়ে যে কাজ পাওয়ার কথা অনেক সময় তাকে সে কাজ দেওয়া হয় না। বাংলাদেশের দরিদ্র, প্রান্তিক, সরল, শিক্ষাবঞ্চিত নারীরা ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর আশায় বিদেশে যান কাজ করতে। কিন্তু পদে পদেই তাদের উপর নেমে আসে নির্যাতন।’
স্মারকলিপিতে ৬ দফা দাবি তুলে ধরে প্রগতিশীল নারী সংগঠনসমূহ। এরমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নারী গৃহকর্মীসহ অভিবাসী নারী শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় আইনী সুরক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত, শ্রম আইন ও বিধি অনুযায়ী উপযুক্ত মজুরি আদায়ে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নারী গৃহকর্মী ও শ্রমিকদের শারীরিক মানসিক অত্যাচার ও যৌন নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের মধ্যে প্রয়োজনীয় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর ও তার দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। যৌন নিপীড়নের ঘটনা ও তথ্য জানার পরও দূতাবাস ও কনস্যুলেট যে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে এসেছে সে ব্যাপারে অনতিবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন, দায়ী কর্মকর্তাদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া উল্লেখযোগ্য।


