কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় এলাকার বখাটে ছেলেদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে চিঠি লিখে আত্মহত্যা করেছে ৯ম শ্রেণির এক স্কুলশিক্ষার্থী।
কেবিএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী (১৫) মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে. শুক্রবার ময়না তদন্ত শেষে তাকে দাফন করা হয়।
আত্মহত্যার পূর্বে সে চিঠিতে আত্মহত্যার কারণ জানিয়ে গেছে। চিঠিতে বাবা-মাকে উদ্দেশ্য লিখেছে ‘আব্বু আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও। আমি জানিনা কী করে কী হয়ে গেল। আমি তোমার মানসম্মান বাঁচাতে পারলাম না। আর আমি কোনো ইচ্ছা করে করিনি এই কাজ আমাকে জোর করে করানো হয়েছে। আর জয়নাল এমন কিছু করেনি। তোমায় সবাই মনে করছ ও আমার সাথে কিছু করছে। কিন্তু শুধু আমাকে জোর করে নিয়ে গেছে। আর তোমার মানসম্মান ডোবালো। রাজ পাড়ার মিঠন, আঙ্গুর এরা তোমার মেয়ের ক্ষতি করল। আমি যদি মরে থাকি তাহলে তুমি মনে করবা রাজ পাড়ার ছেলেদের জন্য আমি মারা গিয়েছি। আর মা তুমি কষ্ট দিয়ে আমার কষ্ট শেষ করতে পারবে না। ভালো থেকো সবাই। -ইতি তোমার মেয়ে ………।’
নিহতের চাচা অভিযোগ করে বলেন, ‘শুক্রবার আমার বড় ভাই এর মেয়ের বিয়ে। এজন্য আমার সেজো ভাইয়ের এই মেয়ে এবং আমার মেয়ে আমলা বাজারে ফুল কিনতে যায়। এসময় বাজার থেকে এলাকার বখাটে জয়নাল প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে আমলা ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এসময় আমলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এএসআই আশরাফ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য রেজেলা খাতুনের কাছে হস্তান্তর করে। আমলা থেকে সে তার নিজ বাড়ি কাতলামারীতে আসার সময় পথিমধ্যে অটোর গতিরোধ করে আরোবিয়ার ছেলে জয়নাল, আনছের আলীর ছেলে মিঠুন, রেজন আলীর ছেলে আঙ্গুর, নাসের রাজের ছেলে রাজু এবং আফতার আলীর ছেলে পারভেজ। তারা জোর করে আমার ভাইয়ের মেয়েকে পার্শ্ববর্তী ছাদিমনের বাড়িতে নিয়ে যায়। এর পরেই সে বাড়িতে এসে আত্মহত্যা করে।
নিহতের চাচার দাবী, জয়নাল ইতিপূর্বেও এই মেয়েটিকে উত্যক্ত করেছে। যা অনেকবার বাড়িতেও সে জানিয়েছে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আব্দুল আলিম জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দোষীদের আটকের চেষ্টা চলছে।

