চট্টগ্রাম ব্যুরো : কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দৃঢ় সংকল্পকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্যে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। যার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই, সীতাকুন্ড এবং ফেনী জেলার সোনাগাজীতে অবস্থিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর’ অন্যতম। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটির আয়তন প্রায় ২৫ হাজার একর এবং যার অনেকটা অংশ জুড়ে রয়েছে মীরসরাই। অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে দ্রুত শিল্পায়ন নিশ্চিত করা এবং দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু সবকিছুর জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি।
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর এলাকা’ পরিদর্শনকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য উক্ত অঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা প্রদান করেন। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অবঃ) শতভাগ বিদ্যুতায়নের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংযোগ প্রদান ও চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ (যেখানে শিল্পনগর অবস্থিত)-কে অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে ইলেকট্রিশিয়ান ট্রেনিং আয়োজন করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যান-এর নির্দেশনা এবং সরকার এর কর্মসংস্থান সৃষ্টির দৃঢ় সংকল্পকে সামনে রেখে মীরসরাইস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর এলাকায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জেনারেল ম্যানেজার শাহ্ জুলফিকার হায়দার (পিইঞ্জ) এর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম পবিস-৩ এর কর্মকর্তা এবং কর্মচারিবৃন্দ মীরসরাই উপজেলার (যেখানে শিল্পনগর এর সিংহভাগ অবস্থিত) বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, বর্ণিত প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণার্থীগণের নিকট হতে জনপ্রতি ৪০০০ টাকা প্রশিক্ষণ ফি গ্রহণের বিধান থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ Corporate Social Responsibility (CSR) এর অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ ফি ব্যতীত প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন আবেদনকৃত প্রার্থীর মধ্য হতে ইতোপূর্বে ২টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছে; যাতে ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং আরো একটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষে অদ্য ২৩/০৩/২০১৯ ইং তারিখ অনুষ্ঠিত মূল্যায়ন পরীক্ষায় ৩৩ জন উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীসহ মোট ৮৩ জন প্রশিক্ষণার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) উত্তীর্ণদের তালিকা সংগ্রহপূর্বক ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর’ এলাকায় গড়ে উঠা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর’ এলাকায় মাটি ভরাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জেনারেল ম্যানেজার শাহ্ জুলফিকার হায়দার (পিইঞ্জ) এর নেতৃত্বে পবিস এর কর্মকর্তা এবং কর্মচারিবৃন্দ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড/চট্টগ্রাম পবিস-৩ এর উদ্যোগে একটি ২০ এমভিএ উপকেন্দ্র (বেজা-১) নির্মাণপূর্বক বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে আরো ২টি উপকেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। গত ০৪/০৩/২০১৯ ইং তারিখ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর এলাকায় প্রথম শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে জিনিয়ান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ-এ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড/চট্টগ্রাম পবিস-৩। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি খুব দ্রুত তাদের উৎপাদন শুরু করবে।
ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম পবিস-৩ এর সীতাকুন্ড এবং হাটহাজারী উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। মীরসরাই উপজেলা অতি শীঘ্রই শতভাগ এর আওতায় আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম পবিস-৩ এর কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অতি শীঘ্রই মীরসরাই উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ তাদের কর্মকা-ের মাধ্যমে প্রতি বছর সরকার থেকে অতিরিক্ত বোনাস অর্জন করে থাকে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কোন পবিস বকেয়া মাস ও সিস্টেম লস এ দু’টি টার্গেট অর্জন করতে না পারলেও জেনারেল ম্যানেজারের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম পবিস-৩ দু’টি টার্গেটই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে ও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরেও উক্ত ২টি টার্গেট অর্জন হয়ে গেছে এবং অতি শীঘ্রই এই পল্লী বিদ্যুৎ সিস্টেম লস সিঙ্গেল ডিজিটে আনা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম পবিস-৩ এর বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের হার ১ এর নিচে অর্থাৎ গড়ে গ্রাহকদের নিকট হতে বর্তমান মাসের বিল ছাড়া আর কোন বকেয়া নেই।
তাছাড়া আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয় হ্রাসের ফলে চট্টগ্রাম পবিস-৩ এর আর্থিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে এবং আগামী ডিসেম্বর/২০১৯ এর মধ্যে এই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আর্থিকভাবে সাবলম্বী হবে বলে আশা করা যায়। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম পবিস-৩ ISO 9001:2015 সনদ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম পবিস-৩ এর বারৈয়ারহাট সাব-জোনাল অফিসকে জোনাল অফিসে উন্নীত করা হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর এলাকায় একটি নতুন এরিয়া অফিস শীঘ্রই চালু করা হবে। এছাড়াও লাইন আপগ্রেডেশন, ফিডার অনুযায়ী লোড বিভাজন, জাম্পার/টুইস্ট অপসারণ করে কানেক্টর স্থাপন, সেকশনালাইজেশন এর মাধ্যমে একের অধিক ১১ কেভি সোর্স লাইন নির্মাণপূর্বক চট্টগ্রাম পবিস-৩ এর বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনেকাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

