চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : মোটরসাইকেল নিয়ে মেয়েদের উত্যক্তকারী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে, আরেক যুবককে খুঁজছে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
গত ৬ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনে অপরাজেয় বাংলায় একটি অনুষ্ঠান থেকে বেলা আড়াইটার দিকে রিকশায় বাসায় ফিরছিলেন এক তরুণী। রিকশাটি রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কলোনির প্রবেশ মুখে পৌঁছাতে একটি মোটরসাইকেলে (চট্ট মেট্রো-ল-১১-৩৪৩৯) এক যুবক পেছন থেকে তরুণীর শরীর স্পর্শ করে, ওড়নায় টান দেয়। এরপর কিছুদূর সামনে গিয়ে মোটরসাইকেলটি দাঁড় করায় ওই দুই যুবক। রিকশাটি কাছে আসতেই দুই যুবক আবার অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও অশ্লীল উক্তি করে। এই সময় তরুণীটি চিৎকার দিলে মোটরসাইকেলটি কদমতলী বাস ষ্টেশনের দিকে চলে যায়। তরুণীটি ওই এলাকা অতিক্রমকালে আবার মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবককে দেখতে পেয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। যুবকরা বুঝতে পেরে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর পর তরুণী যুবকদের ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশ করে এবং কোতোয়ালি থানায় গিয়ে উত্যক্তকারীদের সম্পর্কে জানান। এরপর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন দুই উত্যক্তকারীকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেন। অবশেষে শনিবার এই যুবকের অবস্থান শনাক্ত করে নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে তানভীর আহমেদ সিদ্দিক নামে একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
মোহাম্মদ মহসিন জানান, গ্রেপ্তারকৃত তানভীর আহমেদ সিদ্দিক একজন একজন মাদক ব্যবসায়ীও। সে মোটরসাইকেলযোগে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তায়-প্রধানত নিউমার্কেট, রেলওয়ে ষ্টেশন, কাজীর দেউরি ষ্টেডিয়াম, সিআরবি, চকবাজার মোড, জামালখান, ডিসি রোডসহ বিভিন্ন স্কুল কলেজ থেকে বাসায় যাওয়ার পথে মেয়েদেরকে বিভিন্ন সময়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। মেয়েরা তাৎক্ষনিক কেউ প্রতিরোধ করলে সে দ্রুতবেগে মোটরবাইকে পালিয়ে যায়। তানভীর ও তার অপর সহযোগী ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের মেয়েদেরকে টার্গেট করে তাদের পিছু নেয়। ফাঁকা রাস্তা পেলে মেয়েদের গায়ের ওড়না অথবা কাপড় ধরে টান দিয়ে মেয়েদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। এরা বিকৃতমনা হওয়ায় মেয়েদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে বিকৃত আনন্দ অনুভব করে। তানভীরসহ তার অপর সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আগে থেকেও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।
মেয়েদের উত্যক্তকারী তানভীরকে গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ মহসীন, পিপিএম। তার সাথে ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত)মোঃ কামরুজ্জামান, এসআই মোঃ নুরুজ্জামান, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই বশির গাজী এবং কনস্টেবল গিয়াস উদ্দীন।
থানায় এসে অভিযোগকারী এই তরুণীকে সাহসী মেয়ে উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘রাস্তাঘাটে ইভটিজিং-এর শিকার হলে তাৎক্ষনিকভাবে তা পুলিশকে অবহিত করুন।

