স্পোর্টস ডেস্ক : ‘‘সত্যি কথা বলতে আমি এখনও স্বপ্নের ঘোরে আছি যে আমি কিভাবে এমন ব্যাটিং করেছি! এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। রুমে যাবো এরপর হাইলাইটস দেখব এবং তখন হয়তো বিশ্বাস হবে।’’- বিপিএলের ফাইনালে ১৪১ রানের ইনিংস খেলার পর এভাবে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন তামিম ইকবাল।
মিরপুর শের-ই-বাংলায় গতকাল তামিম মহাকাব্য রচনা করেছেন। ২২ গজে তার দোর্দন্ড প্রতাপ দেখেছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। ঢাকার বোলারদের কড়া শাসন করে তামিম নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তাইতো সেঞ্চুরির ইনিংসটিকে মনে হচ্ছে অবিশ্বাস্য।
আন্দ্রে রাসেল, সাকিব আল হাসান, রুবেল হোসেন তামিমের শিকার হয়েছেন সবথেকে বেশি। রুবেলের বলে সবচেয়ে বেশি ২৬ রান তুলেছেন তামিম। এ ছাড়া সাকিব ও রাসেলের বলে তামিম পেয়েছেন ৩০ ও ৩৪ রান। ৩১ বলে হাফ সেঞ্চুরি পাওয়ার পরের ১৯ বলে তামিম তুলে নেন সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির পরও তাকে আটকানো যায়নি। পরের ১১ বলে ৩৮ তুলে টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস উপহার দেন। এর আগে তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ছিল ১৩০।
গতকালের ইনিংস নিয়ে তামিম বলেছেন,‘সত্যি কথা, আমি কোনো দিনও চিন্তা করিনি এরকম ইনিংস খেলব। খুব ভালো করে পরিকল্পনা সাজিয়ে এমন ইনিংস খেলেছি। বারবার আমি একটা জিনিস বলেছি, সাকিব আর নারিনকে যেন উইকেট না দেই। যদি দেখেন পুরো ইনিংসে নারিনকে একটা ছক্কা ছাড়া কোনো ঝুঁকি নিয়েনি। আমি পেসারদের জন্য অপেক্ষা করেছি।’
বিপিএলে দীর্ঘদিনের অরাধ্য সেঞ্চুরি পেয়ে তামিম বেশ খুশি। এর আগে সত্তরের ঘরে ছিল তামিমের সর্বোচ্চ রান। সেখান থেকে গতকাল খেললেন ১৪১ রানের ধ্রুপদী ইনিংস,‘শেষ কয়েক বছরে সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল। কোনো না কোনো কারণে হয়নি। দেখবেন ৭০-৮০ করে আউট হয়েছি তখনও ছয় ওভার বাকি। এবার হলো। অবশ্যই স্বস্তি পাচ্ছি। আর ফাইনাল ম্যাচে হওয়াতে…এর থেকে ভালো কিছু আর হতে পারে না।’
আন্তর্জাতিক মঞ্চে গতকালের বিস্ফোরক ইনিংসের আত্মবিশ্বাস অনেক কাজে দিবে বলে মনে করেন তামিম,‘এটা অনেক কিছু শেখাবে। ঢাকার যে বোলিং অ্যাটাক, অনেক আন্তর্জাতিক দলেও এতো ভালো বোলিং অ্যাটাক নেই। আমি যদি এ জায়গায় পারফর্ম করতে পারি তাহলে কেন আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফর্ম করতে পারব না! এই সেঞ্চুরি আমাকে অনেক শিক্ষা দিয়েছে।’

