স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো চলে যাওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের শক্তি অনেকাংশ কমে যায়। সেই শক্তি নিয়ে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার কাছে তুলোধুনো হয় রিয়াল। বুধবার রাতে স্প্যানিশ কোপা ডেল রের সেমিফাইনাল প্রথম লেগে মুখোমুখি হয় বার্সা ও রিয়াল।
ন্যু-ক্যাম্পে বার্সেলোনার সঙ্গে এই রিয়াল মাদ্রিদ পেরে উঠবে সেটার পক্ষে বাজি ধরার লোক কমই ছিল। কিন্তু ঘরের মাঠে বার্সাকে জিততে দেয়নি রিয়াল। ১-১ গোলে ড্র করে কোপা ডেল রের ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন টিকিয়ে রেখেছে সান্তিয়াগো সোলারির শিষ্যরা।
বুধবার রাতে ন্যু-ক্যাম্পে ম্যাচের ৬ মিনিটেই এগিয়ে যায় রিয়াল। এ সময় গোল করেন লুকাস ভাসকেজ। অবশ্য গোলটা এসেছে বার্সেলোনার রক্ষণভাগের ভুলের কারণে। এ সময় ডি বক্সের মধ্যে করিম বেনজেমাকে উদ্দেশ্য করে বল বাড়িয়ে দেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। সেখানে বার্সার রক্ষণভাগের একজন খেলোয়াড় বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে পরাস্ত করে বলের দখল নেন করিম বেনজেমা। ডানদিকে কিছুটা সামনে গিয়ে ডানপায়ের আলতো টোকায় পেনাল্টি বক্সের সামনে থাকা লুকাস ভাসকেজকে বাড়িয়ে দেন ফরাসি স্ট্রাইকার। ভাসকেজ বলে বাম পা লাগিয়ে জালে পাঠান। বার্সার গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগান চেষ্টা করেও রুখতে পারেননি। গোটা ন্যু-ক্যাম্পে শ্মশানের নীরবতা নেমে আসে।
ইভান রাকেটিচ অবশ্য সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার নেওয়া হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তাতে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে বার্সা।
অবশ্য বিরতির পর সমতায় ফেরে কাতালানরা। এ সময় গোল করেন বার্সার ব্রাজিলিয়ান তারকা ম্যালকম ফিলিপে সিলভা। অবশ্য গোলটি হয়েছে নাভাসের ভুলের কারণে। এ সময় লম্বা পাসে বামদিকে বল পেয়ে যান জর্ডি আলবা। দ্রুতবেগে বল নিয়ে ডি বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন তিনি।
তাকে রুখতে বেশ খানিকটা সামনে চলে আসেন রিয়ালের গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি। বল চলে যায় ডি বক্সের কিছুটা বাইরে। সেখান থেকে শট নেন লুইস সুয়ারেজ। তার নেওয়া শট পোস্টে লেগে চলে যায় ডানদিকে থাকা ম্যালকমের কাছে। বল পেয়ে সময় নিয়ে ম্যালকম ডান পায়ে শট নেন। রিয়ালের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে নাভাসসহ চারজন থাকলেও কেউ-ই রুখতে পারেননি। বল জালে আশ্রয় নেয়। আর গোটা স্টেডিয়াম সমুদ্রের গর্জনের মতো করে উল্লাসে ফেটে পড়ে।
এরপর অবশ্য ইনজুরিতে থাকা লিওনেল মেসিও মাঠে নেমেছিলেন। ম্যাচের শেষ ৩০ মিনিট তিনি খেলেন। কিন্তু ১-১ গোলের সমতা ভাঙতে পারেননি।
২৭ ফেব্রুয়ারি ফিরতি লেগে রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলতে যাবে বার্সেলোনা। এখন দেখার বিষয় রিয়ালের মাঠে ভিন্ন ফল পায় কিনা কাতালানরা।

